নিজস্ব, প্রতিনিধি, সিউড়ি: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকার ছোড়া গরম জলে পুড়ল শিশুকন্যার শরীর। ঘটনায় জখম অবস্থায় ওই শিশুকন্যা সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সাড়ে চার বছর বয়সি ওই শিশুকন্যার গলায় ও বুকের কিছুটা অংশ ঝলসে গিয়েছে। বুধবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউড়ির নগরী পঞ্চায়েতের তালডিহি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় ওই শিশুর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা ওই সহায়িকাকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আটকে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। সিউড়ি থানার পুলিস পৌঁছে ওই সহায়িকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় জখম শিশুর পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। সিউড়ি-১ ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি সুপারভাইজার জয়িতা পাল বলেন, গরম জল পড়ে একজন শিশু জখম হয়েছে। তার শারিরীক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এটা নিছক দুর্ঘটনা। তবে, এমনটা কাম্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী হোম ভিজিটে ব্যস্ত ছিলেন। সহায়িকা পানমুনি হাঁসদা রান্নার কাজ করছিলেন। তিনি ডিম সেদ্ধ করার পর গরম জল বাইরে ফেলতে যান। অভিযোগ, কোনও কিছু খেয়াল না করে আচমকাই তিনি গরম জল বাইরে ছুড়ে ফেলেন। ওই গরম জলে কনিকার শরীরে পুড়ে যায়। ঘটনায় তার গলায় ও বুকের কিছুটা অংশ ঝলসে গিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ওই সহায়িকাকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা বন্ধ করে রেখে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেতেই স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান পদ্মা বাগদি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পৌঁছন। সকলের সঙ্গে কথা বলে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
পানমুনি হাঁসদা বলেন, ডিম সেদ্ধ করার গরম জল বাইরে ফেলার জন্য দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। সেসময় ওই শিশুটি তার মাকে দেখে দৌঁড় দিয়েছিল। তখন আমার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। তাতেই তার শরীরে গরম জল পড়ে যায়।
জখম শিশুর বাবা রাজেন মুর্মু বলেন, আমার মেয়ে খিচুড়ি নিতে গিয়েছিল। সেসময় রান্নার দায়িত্বে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীর ছোড়া গরম জলে আমার মেয়ে জখম হয়েছে। কিছু খেয়াল না করেই তিনি গরম জল বাইরে ছুড়ে দেন। ওই কর্মীর সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁদের ভরসাতেই আমরা বাচ্চাদের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠাই। আমি ওই কর্মীর শাস্তি চাই। -নিজস্ব চিত্র