Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দত্তপুকুরের নেশামুক্তি কেন্দ্রে যুবতিকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালিক

সুস্থ জীবনের আশায় নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল ৩১ বছরের যুবতিকে। সেখানেই দিনের পর দিন গণধর্ষণের শিকার হলেন তিনি।

দত্তপুকুরের নেশামুক্তি কেন্দ্রে যুবতিকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালিক
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সুস্থ জীবনের আশায় নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল ৩১ বছরের যুবতিকে। সেখানেই দিনের পর দিন গণধর্ষণের শিকার হলেন তিনি। অশ্লীল ভিডিয়ো তুলে চলছিল ব্ল্যাকমেইল এমনটাই দাবি নির্যাতিতার। দত্তপুকুরের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক সন্দীপন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। যদিও আর এক অভিযুক্ত নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্মী অজয় সর্দার পলাতক। 

Advertisement

দত্তপুকুরের দাড়িপুকুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ইউনিট নিয়ে একটি নেশামুক্তি কেন্দ্র চালাতেন সন্দীপন মজুমদার। বারাসতের অভিযোগকারী মহিলা মদের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা তাঁকে এই কেন্দ্রে ভরতি করেন। পরিবারের আশা ছিল চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন তিনি। অভিযোগ, ভরতি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় ‘অকথ্য নির্যাতন’। প্রায় তাঁকে নীচতলার অফিসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে সিসি ক্যামেরা না থাকার সুযোগে কেন্দ্রের মালিক সন্দীপন ও কর্মী অজয় সর্দার মিলে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, কখনও ঘুমের ওষুধ খাইয়েও তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। অভিযোগ, যৌন নির্যাতনের পরও শেষ হয়নি অত্যাচার। ধর্ষণের ভিডিয়ো তুলে তা দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হত। মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ। নির্যাতিতার আরও দাবি, নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অন্য মহিলা ও তরুণীদের উপরও চলত একই ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দীর্ঘদিন ভয়, লজ্জা এবং লাগাতার হুমকির মুখে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন যুবতি। অবশেষে চলতি বছরের ১৩ মে সুযোগ বুঝে নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে পালিয়ে আসেন। অভিযোগ, বাইরে এসেও রেহাই মেলেনি। অভিযুক্তরা তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখাতে থাকে। শেষে সোমবার রাতে দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। রাতে বারাসতের পূর্বাশা এলাকা থেকে নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক সন্দীপন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা, মারধর সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে বারাসত আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিশের দাবি, বিষয়টির তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি একটি গণধর্ষণের অভিযোগ হয়েছে। নির্যাতিতার আইনজীবী গৌরব মুখোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগকারিণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে মালিক সন্দীপন মজুমদার ও তাঁর কর্মী অজয় সর্দার। একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ