Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জয়নগরে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের হাতে ধৃত ১, আলমারিতে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না

জয়নগরে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের হাতে ধৃত ১, আলমারিতে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না
  • ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইনস্টাগ্রামে কিশোরীর সঙ্গে পরিচয়। সেই সূত্র ধরেই তাকে জয়নগরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মর্মে অভিযোগ দায়ের হতেই পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। শেষমেশ তাদের মূল মাথা ধরা পড়েছে পুলিশের টোপে পা দিয়ে। কিশোরীর মোবাইল থেকেই পুলিশ মেসেজ পাঠায় মূল অভিযুক্ত আশিস নস্করকে। লেখে, ‘আমি হোম থেকে ফিরে এসেছি। রাতে ফোন কর’। এই মেসেজের উত্তর দিতেই পাটুলি থানার পুলিশ তার মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে ফেলে। হানা দেয় জয়নগরের চালতাবেড়িয়া গ্রামে। সেখানে পুলিশ দেখে হকচকিত হয়ে পড়ে আশিস। কোনোক্রমে কাঠের আলমারির ভিতরে লুকিয়ে পড়ে সে। কিন্তু তা করেও ঠেকাতে পারেনি গ্রেপ্তারি। এখন গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত তার তিন আত্মীয়ের খোঁজ চলছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী পাটুলি এলাকায় একটি আবাসনে থাকে। যুবকটি তাকে বলে, সে কর্মসূত্রে গুজরাতে থাকলেও আসল বাড়ি জয়নগরে। গত ১৯ জুন সে বান্ধবীকে নিয়ে মেলায় যাবে বলে। সে কিশোরীকে ফোন করে ঢালাই ব্রিজে দাঁড়াতে বলে। জানায়, জামাইবাবু তাকে আনতে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ বাদে একজন বাইকে করে এসে জামাইবাবু পরিচয় দিয়ে তাকে নিয়ে চলে যায় জয়নগরের চালতাবেড়িয়ায়। আশিস তখন বাড়িতে ছিল। অভিযোগ, ছেলের কু-কাজে মদত দিয়েছে তার মা’ও। এরপর কিশোরীকে পাশের একটি গ্রামে নিয়ে যায় আশিস। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রেখে চলে গণধর্ষণ। এদিকে, মেয়ে বাড়ি না ফেরায় কিশোরীর পরিবার থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানায়। ২২ জুন কিশোরীকে পাটুলি থানার সামনে ছেড়ে দিয়ে যায় অভিযুক্তের মা। নির্যাতিতা পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা গণধর্ষণ, যৌন হেনস্তা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে তদন্তে নামে। শারীরিক পরীক্ষার পর কিশোরীকে পাঠানো হয় হোমে।
তদন্তে নেমে পুলিশ নাবালিকার বাড়ি থেকে একটি খাতা উদ্ধার করে।  ওই খাতার উপরে লেখা এ, নীচে এম। মাঝখানে লেখা ডিবি ২৪ সেপ্টেম্বর।  তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, এটি কোনো ছেলের নাম ও তার জন্ম তারিখ হতে পারে। এদিকে, অভিযুক্ত তার মায়ের মোবাইল ব্যবহার করত। কিশোরীর ফোন বুক ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে এক মহিলার নামে দু’টি আলাদা নম্বর সেভ রয়েছে। তার মধ্যে একটি নম্বর আশিসের। তদন্তকারীরা তার কল ডিটেইলস ঘেঁটে নিশ্চিত হয় যে, ওই যুবকই অভিযুক্ত। বারবার ডেরা বদল ও মোবাইল বন্ধ রাখায় তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার সন্ধ্যায় তদন্তকারী অফিসাররা কিশোরীর ফোন থেকে মেসেজ পাঠান তাকে। আশিস সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলে তার অবস্থান জেনে যায় পুলিশ। রবিবার ভোরে চালতাবেড়িয়ায় তার বাড়িতে হানা দিলেও প্রথমে পায়নি তাকে। আলমারি দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। ভিতরে নড়াচড়া আঁচ করেন তাঁরা। সেটি খুলতেই দেখা যায়, ভিতরে ঘাপটি মেরে বসে আশিস। তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় আনা হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ