সংবাদদাতা, বারুইপুর: ভিন রাজ্যের এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কুলতলি থানার পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জন নাবালক। শানকিজাহান এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছিল ৯ জুন। বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি। গণপিটুনির একটি ভিডিয়ো রবিবার ভাইরাল হতেই বিষয়টি জানাজানি হয়। জানা গিয়েছে, কেরলের ওই যুবক কাজের সূত্রে কুলতলিতে এসেছিলেন। কয়েকদিন ধরে ঘুরছিলেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাস্তায় তাঁকে ইতিউতি ঘুরতে দেখে সন্দেহ হয় সাধারণ মানুষের। তিনি বাংলা বুঝতে বা বলতে পারেন না।
এরমধ্যেই থানায় খবর যায়, এক যুবককে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তারা আক্রান্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, ভিন রাজ্যের ওই যুবকের বিরুদ্ধে গ্রামের এক মহিলার হাত ধরে টানাটানি করার অভিযোগ উঠেছিল। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকার মানুষ।
অভিযুক্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় তাঁদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। তাঁর যে ভাষাগত সমস্যা, তা বুঝেই দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পুলিশের দাবি, খুব বেশি মারধর করা হয়নি যুবককে। শুধু কি মারধর, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই বোঝা যাবে। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তার ভিত্তিতেই ওই সাতজনকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন ধৃতদের বারুইপুর আদালতে তোলা হলে আটদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। দুই নাবালককে পাঠানো হয়েছে হোমে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা হবে। এখানে কারও বাড়িতে এসেছিলেন কি না, তাও জানার চেষ্টা করা হবে। মৃতের বাড়ির খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।