Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছাত্রীদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ‘কম্প্রোমাইজ’! অভিযোগ, সুরেন্দ্রনাথ কাণ্ডে অস্ত্র আইনে এফআইআর

সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছাত্রীদের সঙ্গে দেবাশিষের ছেলে শিবাশিষের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে অস্ত্র আইনে এফআইআর। বিস্তারিত জানুন।

ছাত্রীদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ‘কম্প্রোমাইজ’! অভিযোগ, সুরেন্দ্রনাথ কাণ্ডে অস্ত্র আইনে এফআইআর
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের রেস্ট রুমেই ছাত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতেন তৃণমূল নেতা দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে? কলেজে অস্ত্র ও উই ধরা টাকা উদ্ধারের পর এমনই দাবি করছেন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় অংশ। কোনো ছাত্রীকে ‘দাদার’ মনে ধরলে, নিস্তার পাওয়া কঠিন ছিল। কেউ রাজি না হলে, দাদার দলবল  আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে ‘ফূর্তির ঠেকে’ পৌঁছে দিত। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা কলেজ ক্যাম্পাসে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করছে পুলিশ। একইসঙ্গে উত্তর কলকাতার তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ দেবাশিষ ও তাঁর ছেলে শিবাশিষের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে মুচিপাড়া থানা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক বাবা-ছেলে। তাঁদের খোঁজ চলছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়কদের বলেন, এলাকার কলেজগুলিতে পঠনপাঠনের পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশ উন্নতির দিকে নজর দিন।

Advertisement

মঙ্গলবার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উদ্ধার হয় বান্ডিল বান্ডিল টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র, কন্ডোম এবং মদের বোতল। এরপরই মুচিপাড়া থানা অস্ত্র আইন, ষড়যন্ত্র, অবৈধভাবে ঘর দখল সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, তৃণমূল নেতা তথা কলেজের ‘শেষ কথা’ দেবাশিষ ও তাঁর সহযোগী পরিতোষ দত্ত সেখানকার একাধিক ঘর দখলরে রেখেছিলেন। এখানেই মজুত করে রাখা হয়েছিল টাকা। ইউনিয়ন রুমে আর্মস এনে রেখেছিলেন দেবাশিষ। তদন্তে উঠে আসছে, দেবাশিষের নির্দেশ ছাড়া কলেজে কোনও কাজই হত না। ছাত্র ভর্তি থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কেনাকাটা, সমস্ত কিছুই তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন।  কোনওরকম ই-টেন্ডার ছাড়াই জিনিস কেনা হত কলেজে। দেবাশিষের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী পরিতোষের কোম্পানি থেকে সমস্ত কিছু আসত। কাগজে কলমে যে সামগ্রী কেনা হয়েছে বলে দেখানো হত, তা বাস্তবে আসত না। কলেজের টাকা ঘুরপথে দেবাশিষের পকেটে পৌঁছত। কলেজে চুক্তি ভিত্তিক কর্মী নিয়োগে তিনিই ছিলেন মূল মাথা। চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেওয়া হবে বলে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন বলে জানা  যাচ্ছে।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, দেবাশিষ ও তাঁর ছেলের নিজস্ব টিম ছিল। তাঁরা কলেজে ছাত্রছাত্রীদের কাছ জোর করে টাকা আদায় করত বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে শিয়ালদহ স্টেশন লাগোয়া এলাকা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে তোলা আদায়ের জন্য দেবাশিষ নিজে দলবল নিয়ে.হাজির হতেন। কেউ টাকা দিতে না চাইলে, আর্মস দেখিয়ে ভয় দেখাত তাঁরা। এমনকি মুচিপাড়া থানা লাগোয়া একটি নিষিদ্ধ পল্লি থেকে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের এই নেতার বিরুদ্ধে। কলেজে কেউ বিরোধী রাজনীতি করলে, হাতে আর্মস ধরিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অশিক্ষক কর্মীরা। এমনকি মিথ্যা শ্লীলতহানির কেসও করিয়েছেন থানায়। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, শিবাশিষের অত্যাধিক মহিলা আসক্তি ছিল। নতুন ছাত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করত। রাজি না হলে তাঁর দলবল আর্মস দেখিয়ে তুলে আনত কলেজের ‘ফূর্তির ঠেকে’। সেখানে ছাত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করত শিবাশিষ। রাতভর ছাত্রীকে বাধ্য করতেন তাঁর সঙ্গে থাকতে। তাঁদের দাপটের কারণে কেউ অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি।

সম্পর্কিত সংবাদ