নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর জট কাটাতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বৈঠকে বসছে সবপক্ষ। মেট্রো ভবনে এই বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে কলকাতা পুলিশ, কেএমডিএ, মেট্রো রেল, রেল বিকাশ নিগমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
লালবাজারের এক সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতা পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক) ওয়াই এস জগন্নাথ রাও অবশ্য বৈঠকে থাকবেন না। তাঁর বদলে থাকবেন কলকাতার ডিসি (ট্রাফিক)-৩ প্রসেনজিৎ সোম, বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি গৌতম সেনগুপ্ত, অ্যাডিশনাল ওসি শান্তনু সিংহরায়। চিংড়িঘাটা ক্রসিংটি এই বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ড এলাকার মধ্যেই পড়ে।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশের ছাড়পত্র না মেলায় গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নির্মীয়মাণ নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো অর্থাৎ অরেঞ্জ লাইনের কাজ চিংড়িঘাটায় এসে থমকে গিয়েছে। এখানে মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশে কাজ বাকি। যা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এখন অরেঞ্জ লাইনে বেলেঘাটা স্টেশন (বর্তমান অফিস) পর্যন্ত মেট্রো চলছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের দাবি মেনে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হলেও কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ এই কাজের অনুমতি দিচ্ছে না। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের পাল্টা দাবি, চিংড়িঘাটায় সাবওয়ে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশন চালু হলে, পথচারীদের চাপে থমকে যাবে চিংড়িঘাটার যান চলাচল। এই অবস্থায় যে কোনও মূল্যে চিংড়িঘাটায় থমকে যাওয়া কাজ শুরু করতে মরিয়া মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এখন দেখার বিষয়, কীভাবে এই জট কাটে।
এই রুটের নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, বেলেঘাটা স্টেশনে নামার পর কার্যত প্রাণ হাতে করে ইএম বাইপাস পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। কারণ, কলকাতা পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় এখানে ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করা যায়নি। পাশাপাশি, বরুণ সেনগুপ্ত স্টেশনে নামার পর সায়েন্স সিটি, পার্ক সার্কাসের দিকে যেতে হলে যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে হচ্ছে। কারণ, পরমা আইল্যান্ডের কাছে রাস্তা পারাপারের জন্য কোনও জেব্রা ক্রসিং নেই!