


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিমা কেনার হার কম। জীবন বিমা তো বটেই, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সাধারণ বিমায় অনীহা অনেকেরই। সাধারণ মানুষকে বিমায় আগ্রহ বাড়াতে ‘বিমা বিস্তার’ প্রকল্প আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল আগেই। বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই বিমা সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেয়, ওই প্রকল্প চালু করতে হবে সবাইকেই। চলতি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেই প্রকল্প বাজারে আসতে পারে। আশার কথা শোনালেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিলের বিমা সচেতনতা সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান কমলেশ রাও। কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় বিমার জনপ্রিয়তা বাড়াতেই এই প্রকল্প আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিমা বিস্তার এমন এক প্রকল্প, যেখানে গ্রাহকরা একটিমাত্র বিমা প্রকল্প কিনে, তা দিয়ে জীবনবিমা, দুর্ঘটনাজনিত বিমা, সম্পত্তি বিমা এবং চিকিৎসা বিমার আওতায় আসতে পারেন। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়, কোনও গ্রাহক যদি ওই বিমা পলিসি কেনেন, তাহলে জীবন, দুর্ঘটনা এবং সম্পত্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ মিলতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিমার কভারেজ পাওয়া যাবে। একজন গ্রাহক যেমন এই বিমা কিনতে পারেন, তেমনই পরিবারের সবার জন্যও তা কেনার সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে বিমার প্রিমিয়ামে কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রতিটি বিমা সংস্থাকেই একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রিমিয়াম ঘোষণা করতে হবে এই প্রকল্পের জন্য, এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখন মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার যেভাবে বাড়ছে, তাতে কি বিমা ব্যবসা ধাক্কা খাচ্ছে? এদিন কমলেশ রাও বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিমা সংস্থাগুলির আওতায় প্রিমিয়াম বাবদ মোট গচ্ছিত টাকার অঙ্ক (অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট) ৬৭ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত পাঁচবছরে তার বৃদ্ধির হার ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে, মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাগুলির আওতায় গচ্ছিত সম্পদের বৃদ্ধির হার গত পাঁচবছরে ১৭ শতাংশ।