নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একদিকে একের পর এক রাজ্যের আঞ্চলিক দলে হানা দিয়ে সেইসব দলের বিধায়ক, এমপিদের কাছে টেনে নিতে অপারেশন লোটাস। অন্যদিকে, এনডিএ জোটের আকার আয়তন বৃদ্ধির প্রয়াস। এই দু’টি কাজ এখন একযোগে করছে বিজেপি। বঙ্গবিজয়ের পর নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের পরবর্তী লক্ষ্য যে পাঞ্জাব, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু পাঞ্জাব এবং বাংলা সমান নয়। বাংলায় বিজেপি ছিল প্রধান বিরোধী দল। একঝাঁক বিধায়ক ও এমপি ছিলই। পাঞ্জাবে বিজেপির শক্তি নগণ্য। আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস, অকালি দলের পর আসে বিজেপি। দীর্ঘকাল ধরেই রাজনৈতিক শক্তির বিচারে বিজেপি অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি পাঞ্জাবের পুরসভা ভোটের ফলাফলেও এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সুতরাং কোনো জাদুমন্ত্রে আগামী বছরের বিধানসভা ভোটে বিজেপি চতুর্থ স্থান থেকে সকলকে টপকে এক নম্বরে চলে আসবে এবং একক গরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করবে, এই সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেটা বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানে। তাই, নিজের শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি পাঞ্জাবে ভালো ফল করার আশায় এবার বিজেপি পুনরায় শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এই নিয়ে দলের সভাপতি নীতিন নবীনকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। পাঞ্জাবে তিনদিনের সফরে গিয়ে দলের সঙ্গে বৈঠকে নবীন বলেছেন, এখনই যেন কেউ অকালি দলের সঙ্গে জোট নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করে। তিনি বলেছেন, বিজেপি ১১৭ আসনেই একা প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা কে বলতে পারে? এই মন্তব্যের জেরে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, বিজেপির পাঞ্জাব শাখা মনে প্রাণে অকালি দলের সঙ্গে জোট চাইছে। কারণ এই দুই দলের ভোটব্যাঙ্ক এক হলে, আগামী ভোটে আপ ও কংগ্রেস, উভয় দলকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া যাবে বলে বিজেপি নিশ্চিত।



