মুম্বই: মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা পবনরাজে নিম্বলকরের খুনের মামলায় বেকসুর খালাস সমস্ত অভিযুক্ত। শনিবার মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত এই রায় দিয়েছে। ২০০৬ সালের এই খুনের ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদ্মসিং পাতিল। তিনি বর্তমান উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি (অজিত) নেত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের সৎ ভাই। এদিনের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সিবিআই। সম্প্রতি উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনার ছয় সাংসদ বিদ্রোহ করেছেন বলে খবর। ওই সাংসদের মধ্যে রয়েছেন নিম্বলকরের ছেলে ওমপ্রকাশরাজে। স্বাভাবিকভাবেই এই মামলার রায়ের পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
২০০৬ সালের ৩ জুন মুম্বই থেকে ওসমানাবাদ (বর্তনামে ধারাশিব) যাওয়ার পথে নবি মুম্বইয়ে নিম্বলকরের গাড়ি থামিয়ে হামলা চালায় দুই বন্দুকবাজ। মৃত্যু হয় নিম্বলকর ও তাঁর গাড়ি চালক সামাদ কাজির। নবি মুম্বই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে সিবিআই তদন্ত চেয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় নিম্বলকরের পরিবার। আদালতের নির্দেশে তদন্তে নেমে ২০০৯ সালে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। সেখানে প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে নিম্বলকরের তুতো ভাই পদ্মসিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে এই খুনের ছক কষেন পদ্মসিং। পাশাপাশি অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন লাতুরের ব্যবসায়ী সতীশ মান্দাদে, রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত আবগারি পরিদর্শক মোহন শুক্লা, পরশমাল জৈন প্রমুখ। ২০০৯ সালের জুন মাসে পদ্মসিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে আলিবাগের একটি দায়রা আদালত। পরে অবশ্য রাজসাক্ষী হয়ে যান পরশমাল জৈন।
২০১১ সালের জুলাই মাসে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়। ১৫ বছর ধরে কমপক্ষে ১২৮ জন সাক্ষীর বয়ান শোনে আদালত। সাক্ষ্য দিয়েছিলেন অন্না হাজারে। অভিযোগ, নিম্বলকরের সঙ্গে তাঁকেও খুন করার সুপারি দেওয়া হয়েছিল। শেষমেশ শনিবার আট অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস ঘোষণা করেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সত্যনারায়ণ নাভানদার।