সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: নেপালে জলবায়ু বদলের একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে গিয়ে কাঠমাণ্ডুর সিনামঙ্গলে আটকে পড়েছেন কুমারগ্রামের বারোবিশার পড়ুয়া মণিহার তালুকদার। নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির কারণে সিনামঙ্গলের একটি হোটেলে কার্যত বন্দি হয়ে আছেন বারোবিশার ওই ছাত্রী। মণিহারের সঙ্গেই সেই হোটেলে আটকে আছে আরও তিন পড়ুয়া আগরতলার স্বপ্নজিৎ ঘোষ, কোচবিহারের দিনহাটার শৌভিক চক্রবর্তী ও জলপাইগুড়ির ময়ুখ ভট্টাচার্য।
গত ৫ সেপ্টেম্বর চার পড়ুয়া সড়পথে নেপালের কাঠমাণ্ডুর সিনামঙ্গলে ওই আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিতে যান। সেমিনারে চার পড়ুয়া পুরস্কৃতও হন। নাগাল্যান্ড ইউনিভারসিটির পিএইচডি’র ওই চার পড়ুয়ার ৯ সেপ্টেম্বর বাসে ভারতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু নেপালের উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে তাঁরা সেখানেই আটকে পড়েন। রাস্তাঘাট শুনশান থাকায় শিলিগুড়ি ফিরে আসার জন্য তাঁরা কোনও ক্যাবও বুকিং করতে পারেননি। এদিকে, বিমানের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় চার মেধাবী পড়ুয়া আরও বিপাকে পড়েন। এই অবস্থায় হোটেল কর্তৃপক্ষও তাঁদের হোটেলের বাইরে যেতে বারণ করেছে। যদিও ৯ সেপ্টেম্বরই তাঁদের হোটেল ছাড়ার সময়সীমা ছিল।
সিনামঙ্গল থেকে বুধবার মণিহার তালুকদার বলেন, খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। বাড়ির লোকজনও উদ্বেগে আছে। কী করব বুঝতে পারছি না। এখান থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য আমরা নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ রাখছি। মণিহারের বাবা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, ঘটনার পর থেকেই দু’চোখের পাতা এক করতে পারছি না। মেয়েটা যে কীভাবে বাড়িতে ফিরবে তাও বুঝতে পারছি না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আমার মেয়ে সহ চার পড়ুয়াকে যেন দ্রুত নেপাল থেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়। আটকে পড়া পড়ুয়ারা।