মেলবোর্ন: ‘২৫’ এবারও অধরা! নোভাক জকোভিচ পারলেন না মার্গারেট কোর্টকে ছাপিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যামের ইতিহাসে সামগ্রিকভাবে (নারী-পুরুষ মিলিয়ে) সেরার আসনে পৌঁছতে। রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে তারুণ্যের কাছেই হার মানতে হল ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক জোকারকে। তাঁর আশায় জল ঢেলে কার্লোস আলকারাজ গড়লেন ইতিহাস। অধরা অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে কেরিয়ার স্ল্যাম পূর্ণ করলেন ২২ বছরের স্প্যানিশ তারকা। ঝুলিতে এখনই সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। চতুর্থ সেটে চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টের মুখে নোভাকের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হতেই দু’চোখ ঢেকে মাটিতে শুয়ে পড়লেন আলকারাজ। আনন্দে, তৃপ্তিতে! তৃপ্তিই বটে, প্রথম সেট খোয়ানোর পরও দুরন্ত প্রত্যাবর্তনে জকোভিচকে বশ মানানো মুখের কথা নয়। ম্যাচের ফল ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫।
দু’টি করে ফরাসি ওপেন, উইম্বলডন, ইউএস ওপেনের পর প্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে সপ্তম স্বর্গে আলকারাজ। রবিবার প্রথমবার নরম্যান ব্রুকস কাপ হাতে নিয়ে আপ্লুত স্প্যানিশ তরুণ বলছিলেন, ‘প্রথমেই জকোভিচকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এতো বছর ধরে সেরা ফর্মে খেলা মোটেই সহজ নয়। তুমি শুধু টেনিস প্লেয়ারদের জন্য নয়, সব ক্রীড়াবিদের কাছেই অনুপ্রেরণা। আর এই সাফল্যের জন্য আমি কত পরিশ্রম করেছি, তা একমাত্র আমার সাপোর্ট টিম জানে।’
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের অবিসংবাদিত রাজা নোভাক জকোভিচ। রেকর্ড ১০ বার মেলবোর্ন পার্কে পরাক্রমের বিজয়ধ্বজা উড়িয়েছেন তিনি। এদিনও শুরুটা করেছিলেন দাপটে। তাঁর বিদ্যুৎ গতির এস, নিখুঁত প্লেসমেন্ট, স্লাইডিং রিটার্নের সামনে অসহায় দেখাচ্ছিল আলকারাজকে। অনেকে ভেবেছিলেন, ২০২৪ প্যারিস ওলিম্পিকস ফাইনালের মতো এদিনও আলকারাজকে অভিজ্ঞতার পাঠ পড়াবেন তিনি। কিন্তু ২২ বছরের তরুণ আলকারাজও যে যোদ্ধা! প্রথম সেট খুইয়েও খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর দুরন্ত ড্রপশট, পাওয়ার পাসিং শটের জবাব ছিল না জকোভিচের কাছে। তবুও চতুর্থ সেটে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। এই পর্বে চারটি ব্রেক পয়েন্টও বাঁচান জোকার। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। আসলে বয়সটাই বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াল। সেমি-ফাইনালে জানিক সিনারকে হারাতে সেরাটা উজাড় করে দিয়েছিলেন। ফাইনালে তাঁর চেয়ে ১৬ বছরের ছোট আলকারাজের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারলেন না আটত্রিশের জোকার। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে নোভাকের মন্তব্য, ‘সত্যি বলতে কী, আর একটা গ্র্যান্ড স্ল্যামের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে থাকতে পারব ভাবিনি। আলকারাজকে অভিনন্দন। তোমার সামনে অনেক সময় রয়েছে। আশা করি, আরও ১০ বছর তোমার সঙ্গে এভাবে লড়ব (হেসে)। মজা করলাম। কাল কী হবে তা একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন! যাই হোক, আজ আমি উইনিং স্পিচও তৈরি করে এসেছিলাম (হেসে)।’ ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম না জেতার হতাশা আড়াল করে মঞ্চে এভাবে রসিকতা বোধহয় জকোভিচের মতো চ্যাম্পিয়নদের পক্ষেই সম্ভব!