নয়াদিল্লি: রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছেই রয়েছে রেস কোর্স স্পোর্টস কমপ্লেক্স। সেই কমপ্লেক্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিং। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক কমপ্লেক্সটি হঠাৎই বন্ধ করে দেয়। অবসরের আগে পর্যন্ত কমপ্লেক্সটি যাতে বায়ুসেনাকে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে রাখা হয়, তার জন্য তৎপর ছিলেন এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। এমনকি তিনি রাজনাথের সঙ্গে দেখাও করেন বলে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোদি সরকারের সমালোচনায় মুখর কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ লিখেছেন, ‘বায়ুসেনার স্পোর্টস কমপ্লেক্সের বিস্তৃত ইতিহাস রয়েছে। এখানে বহু অনুষ্ঠান হয়েছে। বায়ুসেনার সামাজিক পরিকাঠামোর সঙ্গে এটি যুক্ত। মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা সহমত নই। বায়ুসেনার প্রতি এটি অশ্রদ্ধা ছাড়া কিছু নয়।’ তবে এই নিয়ে বায়ুসেনা বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর ৪২ বছরের দীর্ঘ সামরিক জীবন থেকে অবসর নেন এ পি সিং। এর মাত্র কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক আচমকাই এই গুরুত্বপূর্ণ স্পোর্টস কমপ্লেক্সটি সিল করে দেয়। এই ঘটনার জেরে বিদায়ী বায়ুসেনা প্রধানের জন্য নির্ধারিত ঐতিহ্যবাহী বিদায়ী গল্ফ ম্যাচটিও বাতিল করতে হয়েছিল। সূত্রের খবর, স্পোর্টস কমপ্লেক্সটির মালিকানা নিয়ে রাজনাথকে বিস্তারিত চিঠি লিখেছিলেন এ পি। চিঠিতে তিনি জানান যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত এই রেস কোর্স এয়ার ফোর্স স্টেশনটি দিল্লির ড্রোন বিরোধী ব্যবস্থা বা আকাশসীমা সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজে ব্যবহৃত হয়।
তাতে কাজ না হওয়ায় ২৯ অক্টোবর তিনি রাজনাথের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রায় ৪০ একরের এই জমিতে বায়ুসেনার জওয়ান ও অগ্নিবীরদের প্রশিক্ষণ
এবং থাকার পরিকাঠামো রয়েছে। তাই এই কমপ্লেক্সটি সিল করার প্রক্রিয়া বাতিল করে জমিটি যেন পুনরায় সম্পূর্ণভাবে বায়ুসেনার হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান।-ফাইল চিত্র



