নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান থেকে উৎপাদিত চালের একটা বড়ো অংশ ইথানল উৎপাদনের জন্য ডিস্টিলারি শিল্পের কাছে সস্তায় বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলের সঙ্গে ২০ শতাংশ হারে ইথানল মিশিয়ে বিক্রি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তার জন্যই এই সক্রিয়তা। খাদ্যমন্ত্রকের একটি বিশেষ রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, গত জানুয়ারি মাসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এর জন্য ২৪ লক্ষ টন চাল সরবরাহ করবে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই)। এরপর মে মাসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আরও ২৮ লক্ষ টন চাল দেওয়া হবে ইথানল উৎপাদনের জন্য। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৫২ লক্ষ টন ইথানলের জন্য ডিস্টিলারি শিল্পকে দেওয়া হবে বলে আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই রিপোর্টটি থেকে আরও জানা যাচ্ছে, চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৪.৯৯ লক্ষ টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে ইথানল উৎপাদনের জন্য।
ডিস্টিলারি শিল্পের কাছে প্রতি কুইন্টাল চাল ২২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চাষিদের কাছ থেকে যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) সরকার ধান কেনে তার থেকে কম দামে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধারণভাবে ধান ভেনে চাল উৎপাদন করতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৩২ টাকা খরচ হয় বলে সরকারিভাবে ধরা হয়। অর্থাৎ প্রতি কুইন্টাল চালের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩২০০ টাকা। এর থেকে অনেক কম দামে কেন্দ্রীয় সরকার ডিস্টিলারি শিল্পের কাছে
চাল সরবরাহ করছে ইথানল উৎপাদনের জন্য।
সরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চাষিদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয় মূলত রেশনে চাল দেওয়ার জন্য। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্পসহ আরও বেশকিছু প্রকল্পের জন্য সরকার চাল সরবরাহ করে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবছর রাজ্য সরকারগুলির কাছে ‘ওপেন মার্কেট সেল স্কিমে’ চাল বিক্রি করার উদ্যোগ নেয়। রাজ্য সরকারগুলি নিজেদের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য তুলনামূলক কম দামে চাল কিনতে পারে। চলতি বছরেও তা করা হয়েছে। এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় সরকার জানায় যে রাজ্যগুলির কাছে এই স্কিমে মোট ১২ লক্ষ টন চাল বিক্রি করা হবে, তার জন্য কুইন্টাল প্রতি দাম ধার্য করা হয় ২২৫০ টাকা। তখনই জানানো হয়েছিল একই দামে ডিস্টিলারি শিল্পের কাছে ইথানল উৎপাদনের জন্য ২৪ লক্ষ টন চাল বিক্রি করা হবে। পরবর্তীকালে তা আরও ২৮ লক্ষ টন বাড়ানো হয়। যেখানে দেশের আরও মানুষকে রেশন ব্যবস্থায় আনার আওতায় আনার দাবি সরকারি মানছে না। বরং রেশন গ্রাহকের সংখ্যা কমানোর জন্য কেন্দ্র উদ্যোগী হচ্ছে বলে ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু অভিযোগ করেছেন।
চাল ছাড়াও ভুট্টা ও আখ থেকে ইথানল উৎপাদন করা হচ্ছে। পেট্রোলে ইথানল মেশানোর মাত্রা বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পেট্রোল ব্যবহারকারীসহ অনেক মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে এতে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। কারণ এত বেশি ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহার করার উপযোগী উপকরণযুক্ত গাড়ির
সংখ্যা খুবই কম। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান পেশ করে দাবি জানিয়েছে, এতে গাড়ির কোনও ক্ষতি হবে না। পেট্রোলে ইথানল বেশি মাত্রায় মেশালে পেট্রোলিয়াম আমদানি খাতে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি এটা পরিবেশবান্ধবও।