নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সকালে বাইরে থেকে তালা দিয়ে কাজে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির ভিতরে বিছানায় শুয়েছিলেন অসুস্থ যুবক। পাহারায় ছিল পোষ্য সারমেয়। ভরদুপুরে সেই বাড়ির ভিতরে ঢুকে নৃশংসভাবে খুন করা হল ওই অসুস্থ যুবককে। পোষ্যকে অন্য ঘরে আটকে রেখে দুষ্কৃতীরা এই অপরাধ ঘটিয়েছে। শুধু খুন নয়, যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে লুট করে নিয়ে গিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না। রবিবার দুপুরে এই ঘটনায় বাগুইআটির রঘুনাথপুর সরকার বাগান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তালাবন্ধ বাড়িতে দুষ্কৃতীরা কীভাবে ঢুকল, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। খুন ও লুটপাটের ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তালা খুলেই ভিতরে ঢুকেছেন!
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বলরাম রাজবংশী (৩০)। প্রায় বছর দু’য়েক ধরে তিনি অসুস্থ, শয্যাশায়ী। সম্প্রতি, তাঁর মাথায় অপারেশন হয়েছিল। বাবা ও দাদা মাছের ব্যবসা করেন। মা পরিচারিকার কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালে যে যাঁর কাজে বেরিয়ে যান। বাড়িতে একাই ছিলেন বলরাম। পোষ্য কুকুরটি ছিল তাঁর সঙ্গে। বাড়ির মূল গেটে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়েছিল। দুপুরে তাঁর মা বাড়ি ফিরে তালা খোলেন। তারপর দেখেন, বিছানার উপর নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন বলরাম। সাড়া শব্দ নেই। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন। পোষ্য ছিল পাশের ঘরে বন্দি। আলমারি খোলা, সমস্ত জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে তছনছ অবস্থায়।
খবর যায় বাগুইআটি থানায়। বলারামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাথায় ভারী কিছু জিনিস দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে কীভাবে খুন করা হয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হবে। পোষ্যকেও দুষ্কৃতীরা মারধর করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে, কী করে দুষ্কৃতীরা ভিতরে ঢুকল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, বাড়ির পিছনের দিকে গাছ রয়েছে। সেই গাছ বেয়ে ছাদ হয়ে ঘরে ঢুকে থাকতে পারে তারা। তবে, পুলিশর ধারণা, ছাদ দিয়ে ভিতরে ঢুকে আবার ওইপথেই পালাতে হলে তার চিহ্ন থাকবে। তাছাড়া, আশপাশে প্রচুর বাড়ি। জনবহুল এলাকায় এই ঝুঁকি কি নেবে দুষ্কৃতীরা? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ফলে তারা কীভাবে ভিতরে ঢুকেছে, তার কিনারা হয়নি।
দ্বিতীয়ত, লুট করতে এসে অসুস্থ যুবককে কেন খুন করা হল, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, বাধা দেওয়ার মতো সামর্থ্য বলরামের ছিল না। তাহলে কেন খুন হলেন? তিনি কি দুষ্কৃতীদের চিনে ফেলেছিলেন? এই বিষয়টিও ভাবাচ্ছে পুলিশ অফিসারদের। পুলিশের দাবি, সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।