নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগঠনকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এআই) প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। তবে শুধু প্রযুক্তি নয়, দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার, আদর্শ এবং সাংগঠনিক কর্মপদ্ধতিকে আরও সুসংহত করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনকে আরও দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই কার্যকর্তাদের এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জামের সঙ্গে পরিচিত করানো হচ্ছে। কীভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রচার সামগ্রী তৈরি করা যায়, সামাজিক মাধ্যমে দলের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তির পাশাপাশি সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করতেও জোর দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, কার্যকর্তাদের আচরণ, শিষ্টাচার, সাংগঠনিক দায়িত্ববোধ এবং দলীয় আদর্শ সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।
দু’দিনের আবাসিক এই প্রশিক্ষণ শিবির বিভিন্ন মণ্ডলে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডল থেকে প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ জন কার্যকর্তা অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সকলকেই শিবিরেই রাত্রিবাস করতে হচ্ছে। মণ্ডল সভাপতি, বুথ সভাপতি, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, জেলা পরিষদের সদস্য-সহ বিভিন্ন স্তরের সংগঠকরা এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। রাজ্যস্তরের আটজন প্রশিক্ষক আটটি পৃথক বিষয়ে ৪৫ মিনিট করে সেশন নিচ্ছেন।
এই আটটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে বৈচারিক অধিষ্ঠান, বিজেপির ইতিহাস ও বিকাশ, কার্যবিস্তারের পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কর্মপদ্ধতি, সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও তার বাস্তবায়ন, সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ, বুথ পরিচালনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনের দায়িত্ব ও কার্যকলাপ। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, ৪মে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে যারা দলে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের এই পর্যায়ের প্রশিক্ষণে রাখা হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কার্যকর্তাদের নিয়েই এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, আগামী ১১ জুলাই থেকে আবার নতুন পর্যায় শুরু হবে। খুব ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা নিয়ম মেনে রাত্রিবাস করছেন। এআই সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যোগব্যায়াম, গান এবং সাংস্কৃতিক চর্চারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা পরে বুথ স্তরের আরও বেশি কার্যকর্তাকে যুক্ত করতে পারলে সংগঠনের পক্ষে তা আরও ফলপ্রসূ হবে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি রঞ্জন অধিকারী বলেন, আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণ শিবির চলবে। দীর্ঘদিন পরে সংগঠনের এত বড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অনেকেই নতুন সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই দলীয় আদর্শ, ভাবধারা, কাজের পদ্ধতি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে মোট ২৪ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।