Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেআইনি অনলাইন লটারি-সাট্টা রুখতে এআই ম্যাপিং ডিইও’র, বন্ধ ২০টি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম

রাজ্যজুড়েই বেআইনি অনলাইন লটারি ও সাট্টার রমরমা। তার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের বেশিরভাগই আর্থিক দিক থেকে দুর্বল পরিবারের সদস্য।

বেআইনি অনলাইন লটারি-সাট্টা রুখতে এআই ম্যাপিং ডিইও’র, বন্ধ ২০টি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যজুড়েই বেআইনি অনলাইন লটারি ও সাট্টার রমরমা। তার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের বেশিরভাগই আর্থিক দিক থেকে দুর্বল পরিবারের সদস্য। এই ব্যবসা বেআইনি চলায় কোটি কোটি টাকার রাজস্বেরও ক্ষতি হচ্ছে রাজ্য সরকারের। এই অবৈধ কারবার বন্ধে কোমর বেঁধে নামল ডিরেক্টরেট অব ইকোনোমিক অফেন্সেস (ডিইও)। কোন কোন জায়গায় এই অবৈধ ব্যবসা চলছে তার এআই ম্যাপিং করাল তারা। ওইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনলাইন লটারির ওয়েবসাইট।

Advertisement

ডিইওর কাছে খবর আসছিল, দক্ষিণবঙ্গের 
বিভিন্ন জেলায় অনলাইন লটারি  ও সাট্টার অবৈধ কারবার চলছে। এই কারবারের খোঁজ পেতে হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়াসহ বিভিন্ন জেলায় যান অফিসাররা। তাঁদের নজরে আসে সমস্ত জেলাতেই এই ব্যবসার রমরমা। বাড়ি বা দোকান ভাড়া নিয়েই 
চলছে এই কালো কারবার। দোকানের সামনে 
পর্দা ঘেরা থাকছে। তার ভিতরে থাকছে কম্পিউটার ও নগদ লেনদেনের নথি। এই সমীক্ষা রিপোর্ট জমা পড়ার পর হাওড়া থানায় গত সেপ্টম্বরে একটি কেস রুজু করে ডিইও। তাতে উল্লেখ করা হয়, হাওড়াসহ বিভিন্ন জেলায় এই কারবার চলছে। কোন কোন সাইট থেকে এই খেলা চলছে সেগুলির তালিকাও এফআইআরে উল্লেখ করে তারা। 
তদন্তে নেমে বসিরহাট, বনগাঁ, বারাসত, মেটিয়া, হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ, হাওড়া, উলুবেড়িয়া, বারুইপুর, ক্যানিং, নদীয়া, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জায়গার নাম পান তদন্তকারীরা। তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, এই বেআইনি কারবারের ঠিকুজিকুলুজি পেতে এআই ম্যাপিং করানো হবে। সেইমতো গতমাসের মাঝামাঝি কাজটি শেষ হয়। সেগুলি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে পাঁচ হাজারের বেশি অবৈধ কাউন্টার রয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় চলছে খেলা। লক্ষ লক্ষ টাকা উড়ছে। খেটে খাওয়া মানুষ এখানে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
ডিইও সূত্রের খবর, রাজ্যে পেপার লটারি বাদে অনলাইন লটারি বা সাট্টা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। যে-সমস্ত ওয়েবসাইট থেকে এই লটারি চলছে সেগুলি চিহ্নিত করা হয়। তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত হাজার খানেক ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছেন বলে খবর। বিভিন্ন নামে ডোমেন ভাড়া নেওয়া হয়েছে এগুলি চালানোর জন্য। এই ব্যবসার কোমর ভাঙতে প্রথম ধাপে ২০টি ওয়েবসাইট ব্লক করছে ডিইও। পাশাপাশি অনলাইন লেনদেনের সূত্রে জানার চেষ্টা হচ্ছে, ওয়েবসাইটগুলি যারা চালাচ্ছে তাদের টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। ডিইও সেগুলিও ব্লক করবে। এরপরই শুরু হবে অবৈধ কারবারে জড়িতদের ধরপাকড়। এর পাশাপাশি নতুন সাইট খোলা হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখতে তৈরি হয়েছে বিশেষ টিম।

সম্পর্কিত সংবাদ