নয়াদিল্লি: গত কয়েক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ডেটা সেন্টার। এই সমস্ত ডেটা সেন্টারগুলির জন্য প্রয়োজন পড়ছে বিপুল পরিমাণ জল ও বিদ্যুতের। যা নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন বহু মানুষ। এর মধ্যেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়ারনমেন্ট অ্যান্ড হেল্থ (ইউএনইউ-আইএনডব্লুইএইচ)-এর তরফে এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের জন্য যে পরিমাণ জলের প্রয়োজন হবে, তা দিয়ে ১৩০ কোটি মানুষের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
এআইয়ের জন্য এত পরিমাণ জলের দরকার কেন? আসলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যে কোনো মডেলের ব্যাক-এন্ডে কাজ করে হাজার হাজার শক্তিশালী গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ)। এই প্রসেসরগুলি প্রতিনিয়ত কোটি কোটি ডেটা প্রসেস করতেই থাকে। ফলে সার্ভারগুলি গরম হয়ে যায়। তা ঠান্ডা রাখার জন্য ডেটা সেন্টারগুলিতে প্রয়োজন হয় লক্ষ লক্ষ লিটার জলের। উষ্ণ এলাকায় জলের প্রয়োজন হয় আরও বেশি। যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর। যে সমস্ত এলাকায় ইতিমধ্যে জলের চাহিদা রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউএনইউ-আইএনডব্লুইএইচ-এর তরফে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘২০৩০ সালে ডেটা সেন্টারের জন্য ৯.৩ লক্ষ কোটি লিটার জল লাগবে। যা দিয়ে সাব-সাহারান আফ্রিকার ১৩০ কোটি মানুষের এক বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’ রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলির জন্য মোট ৪৪৮ টেরাওয়াট বিদ্যুৎ লেগেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এআই ডেটা সেন্টারগুলির জন্য ৯৪৫ টেরাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে। যা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার মোট বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় তিনগুণ।