নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এবার বাঁকুড়া জেলার সমস্ত চাষির তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে চলেছে জেলা কৃষিদপ্তর। তারা ফার্মার্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছে। এজন্য একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে চাষিদের নাম নথিভুক্ত করা হবে। সেখানে চাষিদের জমির পরিমাণ, ফসলের বিবরণ সহ যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ থাকবে।বাঁকুড়ার উপ-কৃষি অধিকর্তা(প্রশাসন) দেবকুমার সরকার বলেন, এই প্রক্রিয়া শুরুর আগে কর্মী-আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও ভূমিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগেই ওই তথ্য ভাণ্ডার সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হবে। তারপর চাষিদের জন্য নির্দিষ্ট ‘আইডি’ তৈরি করা হবে। তা লিখে পোর্টালে সার্চ করলেই সংশ্লিষ্ট চাষির যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। আগামী দিনে ওই তথ্যের উপর ভিত্তি করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে।বাঁকুড়া-১ ব্লকের পুয়াবাগানের চাষি গৌতম নন্দী বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য আমাদের বারবার নথি জমা দিতে হয়। এতে অনেকসময় হয়রানির শিকার হই। সরকারের তরফে তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে খুবই ভাল হবে।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার চাষিদের সরাসরি আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। পিএম কিষান ও পূর্বতন রাজ্য সরকারের কৃষকবন্ধু প্রকল্প চাষিদের মধ্যে ভাল সাড়া ফেলেছে। চাষিদের জন্য নানা ভর্তুকিযুক্ত প্রকল্পও সরকার রূপায়ণ করে। সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি বণ্টন, সহজ শর্তে ঋণদান সহ নানা সুবিধা দেওয়া হয়। চাষিদের প্রতিবার আলাদা আলাদা প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমির পরচা, পরিচয়পত্র এবং চাহিদামতো নথি জমা দিতে হয়। এতে অনেকসময় সমস্যা হয়। ফার্মার্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেই সমস্যা মিটবে।
কীভাবে তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে? কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ভূমিদপ্তর ও আমাদের কর্মীরা জেলার সমস্ত চাষির জমি ও ফসলের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সেই জন্য ‘ডিজিটাল ক্রপ সার্ভে’ হবে। শেষ তিনটি মরশুমে নির্দিষ্ট জমিতে চাষি কী কী ফসল চাষ করেছেন, তা জেনে নেওয়া হবে। চাষির পরিচয়পত্র সহ অন্য তথ্যও নেওয়া হবে। এতে আমরা এলাকাভিত্তিক কৃষি যন্ত্রপাতি, সার, বীজের চাহিদা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাব। ফলে আগামী দিনে চাষিরা ওই সমস্ত সামগ্রীর জন্য পোর্টালে আবেদন করলে কিউআর কোড জেনারেট হয়ে যাবে। তা স্ক্যান করে চাষিরা প্রয়োজনমতো সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন। বৈধ চাষি ছাড়া আর কেউ সেসব নিতে পারবেন না। ফলে দুর্নীতি ও কালোবাজারি আটকানো সম্ভব হবে। কিন্তু, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো চাষি জমি কেনাবেচা করলে কী হবে? ওই আধিকারিক জানান, সেক্ষেত্রে ভূমিদপ্তরের রেকর্ড থেকে সরাসরি পোর্টালে চাষির জমির পরিমাণ সেইমতো হ্রাস ও বৃদ্ধি হয়ে যাবে।