


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বাংলায় নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হোক। মন্ত্রী মেয়ের কাছে এমনই আর্জি অপর্ণা রায়ের। অপর্ণাদেবী আসানসোল দক্ষিণের জয়ী বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের মা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে অগ্নিমিত্রার কাঁধে এবার নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার একান্ত এক সাক্ষাৎকারে অপর্ণাদেবী আগাগোড়াই রাজ্যের নারী সুরক্ষার উপর জোর দিয়ে গিয়েছেন। মেয়ের শৈশবের স্মৃতি খুঁড়ে অগাধ ভরসাও রাখছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমার মেয়ে ঠিক পারবে।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘রাজ্যে আর যেন অভয়ার ঘটনা না ঘটে। কোনো মা, বাবাকে মেয়ের নিরাপত্তার জন্য যেন রাত জেগে বসে থাকতে না হয়। মেয়ের সুরক্ষার দাবিতে মা’য়েদের যেন রাস্তায় নামতে না হয়। আমার পুপাইকে আমি যতটুকু চিনি তার ভিত্তিতে বলতে পারি, দায়িত্ব সম্পর্কে ও অত্যন্ত সচেতন। মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজটা ও নিশ্চয় পারবে।’
তখনকার দিনে অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সের পোস্ট গ্রাজুয়েট অপর্ণাদেবী। পুপাইকে মানে অগ্নিমিত্রাকে কোলে-পিঠে বড় করেছেন। অনেক রাত তাঁকে জেগে থাকতে হয়েছে মেয়ের পড়াশোনার জন্য। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘ওর ছেলেবেলাতে রাত জেগেছি। মেয়ে বড় হওয়ার পর রাজ্যে যেখানে নারী নির্যাতন হয়েছে, সেখানেই ছুটে গিয়েছে। রাতেও আন্দোলন করেছে। আমি আর ওর বাবা বাড়িতে জেগে বসে থাকতাম। একবার আসানসোলে বালির গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। ছেলেগুলি তৃণমূল করত। তাঁদের একজনের ছোট সন্তান ও তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী ছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে গিয়েছিল পুপাই। রাত জেগে আন্দোলন করেছিল। আমরা রাত তিনটে পর্যন্ত বাড়িতে অপেক্ষা করে বসেছিলাম। অভয়াকাণ্ড বাংলার সব মায়ের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। এখানে মেয়েরা কেন নিরাপদ থাকবে না। আমি চাই অভয়ার সঠিক বিচার হোক। আমার পুপাই তার ব্যবস্থা করুক।’
অপর্ণাদেবী চিকিৎসক পরিবারের মেয়ে। বাবা জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন স্বর্ণপদক প্রাপ্ত চিকিৎসক। তাঁর স্বামী অর্থাৎ অগ্নিমিত্রার বাবা অশোক রায়ও চিকিৎসক। অপর্ণাদেবীর দুই কন্যা। বড় মেয়ে অগ্নিমিত্রা। ছোট মেয়ে অরিত্রেয়ী। তিনি লন্ডনের একটি ব্যাঙ্কের আধিকারিক। অপর্ণাদেবী বলছিলেন, ‘ফ্যাশান ডিজাইনার হওয়ার খুব শখ ছিল পুপাইয়ের। সেটাই পরে ওর পেশা হয়ে ওঠে। তখন শাড়ি, ব্রাউজের নতুন নতুন নকশা তৈরি করত। সেগুলি প্রথম আমাকে উপহার দিত। সাত বছর আগে জনসেবা করার ঝোঁক চাপল মেয়ের। আমি বাধা দিইনি।’ মেয়েকে সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন অগ্নিমিত্রার বাবা অশোক রায়ও। পাশাপাশি পরামর্শ দিতেন, দুনীর্তি, বেনিয়মের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। সেই দপ্তরের বর্তমান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। অশোকবাবু বলছিলেন, ‘আমার মেয়ে খুবই দক্ষ। সর্বক্ষণ কাজ করতে ভালোবাসে। তবুও ওকে বলেছি, যেখানে দুর্নীতি দেখবে, সেখানেই যেন কঠোর হাতে দমন করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় দপ্তর বণ্টন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পেয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এদিন তাঁর বাবা-মা হাজির হন দুর্গাপুরের গোপাল মাঠে। সেখানেই তাঁদের পারিবারিক দুর্গা-শিব মন্দির রয়েছে। অশোকবাবু ও অপর্ণাদেবী প্রণাম করে মন্ত্রী মেয়ের সাফল্য কামনা করেন। তার পর তাঁরা যান কুলদেবতার মন্দিরেও।