অরাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা। বাবা চিকিৎসক। মা সাধারণ গৃহবধূ। ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন ছিল ছেলেবেলা থেকেই। কিন্তু, ললাট লিখন ছিল অন্য। উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা। তিনি হলেও হতে পারতেন অধ্যাপিকা কিংবা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। সেই পথেও হাঁটলেন না। হলেন ফ্যাশন ডিজাইনার। পরিধান নির্মাণ কৌশলে তাঁর মৌলিক ভাবনা ঝড় তুলল তামাম ভারতীয় চলচ্চিত্র দুনিয়ায়। মিঠুন, শ্রীদেবী, কে কে মেনন, সোনালী কুলকার্নির মতো চলচ্চিত্র শিল্পীদের পোশাক ডিজাইনার হয়ে তিনি যখন সাফল্যের শিখরে তখনই জীবনে ফের বাঁক। নাম লেখালেন রাজনীতিতে! সম্পূর্ণ অন্য জগত। সেখানেও তিনি সফল। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী তিনি। সোমবার সাংবাদিক সুমন তেওয়ারির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে অকপট সেই লড়াকু নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
বিধানসভায় পূর্বসূরি ফিরহাদ হাকিমের প্রশংসা কেমন লাগছে?
•• ফিরহাদ হাকিম ছ’মাস আগেও আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন. আপনি ভুল দলে রয়েছেন। আমাদের দলে চলে আসুন। তাঁকে এখন বলতে হচ্ছে, উনি নাকি আমার মতো কাজ করতে পারেননি। এটাই তো পরিবর্তন। শুধু বিধানসভায় নয়, ওঁর সঙ্গে কোথাও দেখা হলেই আমার প্রশংসা করেন। বলেন কোনো পরামর্শের প্রয়োজন হলে জানাতে।
পরামর্শ নেবেন?
•• অসুবিধা কোথায়? উন্নয়নের স্বার্থে যদি পরামর্শ দেন নিতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু উনি কেন, কালকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও পরামর্শ দিতে চেয়েছেন। যিনি কলকাতাকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তাঁর পরামর্শও কাজে লাগবে। আমাদের সরকার সবে এসেছে। আমরা সবজান্তা নই। ভালো কাজের জন্য ওঁদের দুর্নীতির চ্যাপটারকে সরিয়ে রেখে পরামর্শ শোনা যেতেই পারে।
তার মানে বিরোধীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করতে চান?
•• লোকসভায় এমপি’রা একসঙ্গে কফি হাউসে বসে আড্ডা দিতে পারেন। আমরা এখানে করলে কী সমস্যা। আমার কাছে ওঁদের বিধায়ক শিউলি সাহাও এসেছিলেন। বলেছি, আমি তো আপনাদের তৃণমূলের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে নেই। আপনাদের এলাকার কী কী প্রয়োজন, সেগুলি আমাকে এসে জানান।
পুরমন্ত্রী হিসাবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
•• বাংলার সবার বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই জল না পৌঁছানো আমাদের দুর্ভাগ্য। আম্রুত প্রকল্প বিগত সরকার সফল ভাবে রূপায়িত করেনি। আমরা দ্রুত সেই কাজ করছি। এক বছরের মধ্যে প্রতিটি পুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেব।
পুরদপ্তরের নতুন কী পরিকল্পনা রয়েছে?
•• রাজ্যের প্রতিটি শহরের রাস্তায় নতুন করে সাইনেজ বসবে। বহু খ্যাতনামা বাঙালির নামে রাস্তা রয়েছে। কিন্তু সাইনেজের অভাবে মানুষ তা জানতেই পারে না। কেএমসিতে পাইলট প্রজেক্ট হবে। বাইপাস-রাজারহাট সংযোগকারী উড়ালপুল হবে। এতে চিংড়িঘাটায় যান-জট কাটবে। একটি রিং রোড করব। প্রতিটি পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলি সাজিয়ে তুলব।
শহর সাজাতে আপনার নয়া কোনো উদ্যোগ?
•• কালকাতার ট্যাংরাকে চায়না টাউনের আদলে সাজিয়ে তোলা হবে। মায়াপুরকে ধর্মীয় নগর, তমলুক ও কোচবিহারকে হেরিটেজ সিটি হিসাবে তুলে ধরা হবে। উত্তরবঙ্গে পাঁচটি হিল সিটি ও আসানসোল সহ রাজ্যে চারটি স্মার্ট সিটি গড়া হবে।
পুরভোট নিয়ে আপনার দপ্তরের কী ভাবনা?
•• পুর পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসক বসানো হয়েছে। বিভিন্ন কর্পোরেশন ও পুরসভার বড় ওয়ার্ডগুলির ডিলিমিটেশন করছি। ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লে উন্নয়ন খাতে টাকা বেশি আসবে। আরও ভালো ভাবে ছোট ছোট ওয়ার্ডগুলিকে সাজিয়ে তোলা যাবে।
পুরভোটে আপনাদের প্রধান প্রতিপক্ষ কী বামেরাই?
•• এতদিন বামেরা তৃণমূলের বি-টিম হয়ে সাহায্য করেছে। রাজ্যে তৃণমূল বিরোধী ভোটকে ভাঙার কাজ করেছে। এখন তৃণমূল শেষ। তাই ওরা আন্দোলন করছে। বামেরা আসলে উন্নয়ন বিরোধী।
অভয়াকে নিয়ে আপনি একটি কবিতা লিখেছিলেন। বিচার নিয়ে কী আক্ষেপ রয়েছে?
•• অগ্নিমিত্রা পালের ব্যক্তিগত মত হল, অভয়া সঠিক বিচার এখনও পাননি। সিবিআইকে খুব বেশি দোষ দেব না। কারণ, ওঁদের তদন্ত শুরুর আগেই প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আবার সেই ফাইল খুলেছেন। আমরা আশা করি, দোষীর শাস্তি হবে।
জেন জির আন্দোলন নিয়ে আপনার কী মত?
•• ওদের আন্দোলন ন্যায়সংগত। কিন্তু, যেভাবে সেই আন্দোলন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কুৎসিত আক্রমণ করা হয়েছে। ভারতের টুকরো করার স্লোগান উঠেছে, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান উঠেছে। তাতে মনে হয়েছে, পড়ুয়াদের আন্দোলন হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। ঝাড়খণ্ডেও ছাত্র আন্দোলন হচ্ছে। তাঁরা কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে, পড়ুয়াদের দাবিকেই সামনে রাখা হবে।