নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ২০০৯ থেকে ২০২৬। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ১৭ বছর পরও রানিগঞ্জ কয়লা খনি পুনর্বাসন প্রকল্প সম্পন্ন হয়নি। সার্ভেতে ধসপ্রবণ শতাধিক এলাকা চিহ্নিত হয়েছিল। যেখানে প্রায় ২৮ হাজার পরিবারের বসবাস। বাম আমলের দু’বছরে ও তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরেও এই মানুষদের পুনর্বাসন দিতে পারেনি রাজ্য সরকার। পুনর্বাসন নিয়ে প্রায় দু’দশক কেন্দ্র রাজ্য টানাপোড়েন দেখেছে শিল্পাঞ্চলবাসী। এখন সেই পরিস্থিতি অতীত। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার। তাই পুনর্বাসন প্রকল্প সম্পন্ন করতে মরিয়া পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। নিজেকে আসানসোলের দিদিভাই পরিচয় দেওয়া অগ্নিমিত্রা এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে পারলে খনি অঞ্চলের ইতিহাসের পাতায় ঠাই হবে তাঁর। আর তা না হলে পুনর্বাসন দিতে না পারার কোন ‘অজুহাত’ নেই তাঁর কাছে। কারণ, কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারের কাছেই আসানসোল দক্ষিণের এই বিধায়ক অত্যন্ত প্রিয়পাত্র।
শনিবারই দুর্গাপুরে এডিডিএ’র বোর্ড মিটিং হয়। সেখানেই রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও বারাবনির বিধায়কদের নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে রাত পর্যন্ত বৈঠক করেন পুরমন্ত্রী। সেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল রানিগঞ্জ কয়লা খনি পুনর্বাসন প্রকল্প। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই প্রকল্পর জন্য অর্থ দেবে কোল ইন্ডিয়ার সাবসিডারি ইসিএল, প্রকল্প বাস্তবায়িত করবে এডিডিএ। সেই মতো এডিডিএ কর্তৃপক্ষর কাছে প্রকল্পে খুঁটিনাটি তথ্য নেন মন্ত্রী। পুরো বিষয়টি অবগত হন বিধায়করাও। সেখানেই মন্ত্রী পুনর্বাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
অগ্নিমিত্রা পাল বৈঠক শেষে বলেন, ‘যেখানে পুনর্বাসন প্রকল্পের আবাসনগুলি নির্মাণ হয়েছে সেগুলির জায়গা আমার খুবই পছন্দ। যাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে তাঁদের সেখানে নিয়ে যাব। কী কী সুবিধা পাবেন সব জানাব। এক একটি পরিবার দু’টি করে ফ্ল্যাটে পাবেন। প্রতি পরিবার মাসে ১৫ হাজার টাকা করে দু’বছর পাবেন। স্থানান্তরিত করার জন্য এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। ধস প্রবণ এলাকায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।’ এডিডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। যাঁদের ওই এলাকায় নিজস্ব জমি ছিল না। তাদের জন্য আবাসন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। অন্যদিকে, পাঁচ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে যাঁদের নিজস্ব জমি রয়েছে। তাঁদের জমির বদলে জমি বা অর্থ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ইসিএলের টাকায় জামুড়িয়ার বিজয়নগর, বারাবনির দাশকেয়ারি ও অণ্ডালের দক্ষিণখণ্ডে মোট ১০ হাজার আবাসন নির্মাণ হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আরও বহু সংখ্যাক আবাসন নির্মাণ এখনও বাকি। তৃণমূল সরকারের নেতা মন্ত্রীরা অভিযোগ করতেন কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনস্থ সংস্থা ইসিএলে পর্যাপ্ত অর্থ দিচ্ছে না। এমনকী রাজ্য সরকার জমি প্রকল্পের জন্য জমি চাইলেও তা নিয়ে টালবাহানা করত ইসিএল। ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ার সেই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে, পুনর্বাসন প্যাকেজ নিয়ে সেই সময়ে বহু পরিবারের অনীহা ছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকারও বিষয়টি নিয়ে অনেক নমনীয় ছিল। এই সরকার কিন্তু প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই অগ্নিমিত্রার উদ্যোগে কী সাড়া মেলে, সেদিকেই নজর খনি অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলের।