বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পরও মণিপুরে অশান্তির রেশ কাটছে না। ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কাংপোকপি জেলা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত রাস্তা সচল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেইমতো জনজীবন স্বাভাবিক করতে শনিবার থেকে বাস পরিষেবা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতেই দেখা দিল অশান্তি। রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কুকি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। বাস আটকে পাথরও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এর জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। জানা গিয়েছে, কুকি মহিলারা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয়। এরফলে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী জখম হয়েছেন বলে খবর।
গত ২ মার্চ দিল্লিতে মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা ও শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। বৈঠকের পর শাহ ৮ মার্চ থেকে মণিপুরে জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সমস্ত রাস্তা সচল করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এই নির্দেশের বিরোধিতা করে কুকি গোষ্ঠী। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তারা পথে নামে। কুকি গোষ্ঠীগুলি জানিয়েছিল, তাদের দাবিদাওয়া মানা না হলে রাস্তায় যান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। সেই মতো কাংপোকপি জেলার রাস্তায় বাস নামতেই বাধা দেন কুকি মহিলারা। কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখান কুকিরা। কুকিদের জন্য পৃথক প্রশাসনের দাবিতেই তাঁদের এই বিক্ষোভ।
গত ২২ মাস ধরে হিংসার আগুনে পুড়ছে মণিপুর। থমকে রয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পরও এদিন রাজ্যজুড়ে অবাধে যান চলাচল শুরু করা যায়নি। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরও রাজ্য সরকার এমন উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি।