সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: লক্ষ্য বৃহত্তর! একদিকে দলের মধ্যেই বিদ্রোহ জারি রেখে বিক্ষুদ্ধ ‘স্বাক্ষরকারী’র সংখ্যা বাড়ানো, অন্যদিকে রাজ্যসভা থেকে একে একে সাংসদদের ইস্তফা। বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী এবং তৃণমূল ভাঙানো খেলার নেপথ্য নায়ক ভূপেন্দ্র যাদবের মোতিলাল নেহরু মার্গের বাড়িতে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক। দল ছাড়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একইভাবে তৃণমূলের সদ্য মনোনীত সাংসদ রুক্মিনী মল্লিক (কোয়েল)ও ইস্তফা দেবেন। সেই মতো তিনি রাজ্যসভার সচিবালয়ে ই-মেল করেছিলেন। কিন্তু গ্রাহ্য হয়নি। কারণ, ইস্তফা দিতে গেলে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই কোয়েল ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ইস্তফা দেবেন বলেই খবর।
আগামী দিনেও যে এই বিক্ষুব্ধদের বিজেপি নিজেদের পাল্লায় আনার চেষ্টা করবে, বলাই বাহুল্য। কারণ, মোদি-শাহর আসল টার্গেট সংসদে সংখ্যা বাড়ানো। মোট সদস্য
সংখ্যার দুই-তূতীয়াংশর অধিকারী হওয়া। তাহলেই ইচ্ছামতো পালটানো যাবে সংবিধানের যে কোনো অনুচ্ছেদ। তাই দল ভাঙানোর খেলায় নেমেছে বিজেপি?
সম্প্রতি লোকসভার বিশেষ অধিবেশন (গত ১৭ এপ্রিল) ডেকেও মোদি পাশ করাতে পারেননি ১৩১ তম সংবিধান সংশোধন বিল। মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকরের গাজর ঝুলিয়ে বিজেপি এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রবল চেষ্টা করেও মুখ থুবড়ে পড়েন মোদি। প্রয়োজন ছিল ৩৬২টি ভোট। বিজেপি-এনডিএ’র পক্ষে জুটেছিল ২৯৮। বিরোধীরা ২৩০। প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর ওইটাই ছিল মোদির প্রথম বিল পাশ না করাতে পারার ব্যর্থতা।
তাই এবার নিজেদের শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যেই পরবর্তী টার্গেট সমাজবাদী পার্টি (সপা) এবং (উদ্ধবপন্থী) শিবসেনা। লোকসভায় সপার রয়েছে ৩৭ সাংসদ। রাজ্যসভায় চার। (উদ্ধবপন্থী) শিবসেনার লোকসভায় ৯। রাজ্যসভায় এক। এনডিএ’কে দুই তৃতীয়াংশ হতে গেলে লোকসভায় হতে হবে ৩৬২। রাজ্যসভায় ১৬৪। এখন রয়েছে লোকসভায় ২৯৮। রাজ্যসভায় ১৫০। তাই বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে ম্যাজিক সংখ্যা পেরনোই মোদির টার্গেট। ওড়িশায় বিজেডির রাজ্যসভার তিন সাংসদকে ইস্তফা দিইয়ে ফের তাঁদেরই বিজেপির টিকিটে উপনির্বাচনে জেতানো হয়েছে। তৃণমূলের ইস্তফা দেওয়া সাংসদদেরও কি তাই হবে? রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতুহল।
যদিও সুস্মিতা দেবকে অসমের নগাঁও থেকে লোকসভার উপনির্বাচনে টিকিট দিয়ে জিতিয়ে আনতে চায় বিজেপি। তাহলে লোকসভায় একটি আসন বাড়বে। কংগ্রেসের প্রদ্যোৎ বরদলুই নগাঁও থেকে ইস্তফা দিয়ে সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ব্লক তো রয়েইছে। ‘দল বিরোধী আইনে’র কোপ এড়িয়ে সাংসদ পদ বজায় রাখতে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ সাংসদের মধ্যে কমপক্ষে ১৯ জন দরকার। এখনো পর্যন্ত যাঁরা বিক্ষুব্ধ দলে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁরা হলেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, শর্মিলা সরকার, মালা রায়, মিতালি বাগ, জুন মালিয়া, বাপি হালদার, অরূপ চক্রবর্তী, কালিপদ সোরেন, জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, অসিত মাল, পার্থ ভৌমিক, ইউসুফ পাঠান, দীপক অধিকারী (দেব)।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের দলেই আছেন বলেই জানিয়েছেন কাকলিদেবী। যদিও এরই মধ্যে আবার টুইস্ট দিয়েছেন দেব। বিক্ষুব্ধদের দলে নামও লিখিয়েও মুখে বলেছেন ‘দিদির সঙ্গেই আছি।’ অন্যদিকে, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং প্রতিমা মণ্ডল এদিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলিঙ্গনবদ্ধ ছবি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ১২ বছর পূর্ণ হওয়ায় প্রবল প্রশংসা করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা।