Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অষ্টধাতুতে তৈরি উমার আরাধনার পরই শাঁকারি গ্রামে শুরু হয় বাকি সমস্ত পুজো

মহালয়ার সাতদিন আগে থেকেই পুজো শুরু হয়ে যায় খণ্ডঘোষের শাঁকারি গ্রামে। কয়েকশো বছর আগে থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। এই গ্রামে মা শঙ্করী নামে পরিচিত।

অষ্টধাতুতে তৈরি উমার আরাধনার পরই শাঁকারি গ্রামে শুরু হয় বাকি সমস্ত পুজো
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খণ্ডঘোষ: মহালয়ার সাতদিন আগে থেকেই পুজো শুরু হয়ে যায় খণ্ডঘোষের শাঁকারি গ্রামে। কয়েকশো বছর আগে থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। এই গ্রামে মা শঙ্করী নামে পরিচিত। মায়ের নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয় শাঁকারি। মায়ের মূর্তি কষ্টি পাথরের। এলাকার বাসিন্দারা যেকোনও শুভ কাজ শুরু করার আগে মায়ের দ্বারস্থ হন। বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্যও তাঁরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন। এলাকায় এখনও আরও কয়েকটি পুজো হয়। কিন্তু শঙ্করী মায়ের পুজোর গুরুত্ব অন্যরকম। পুজোর দিনগুলিতে মন্দির চত্বরে তিলধারণের জায়গা থাকে না। সন্ধিপুজোর সময় সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। দশমী পর্যন্ত মায়ের বিশেষ পুজো করা হয়।

Advertisement

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, মহালয়ার আগে থেকে গ্রাম জমজমাট হয়ে ওঠে। পুজোর নিয়মে কোনও হেরফের হয়নি। সন্ধিপুজোর দিন মন্দিরে আনা হয় তামি। তাতে জলঘড়ি দেখে পুজো শুরু হয়। আগে তেমন ঘড়ির চল ছিল না। তামি দেখেই সময় নির্ঘণ্ট হতো। সেই রেওয়াজ এখনও রয়েছে। মহালয়ার আগে শঙ্করী মাকে স্নান করানো হয়। পরে কলাবউ এনে মাকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। গ্রামের বাসিন্দা উমাপদ ঘোষ বলেন, শঙ্করী মায়ের পুজোর পরই অন্যান্য মায়ের পুজো শুরু হয়। পুজো শুরুর পর হাঁক দিয়ে অন্যান্য পুজো উদ্যোক্তাদের জানানো হয়। শঙ্করী মা আমাদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। প্রায় ৭০০ বছর আগে মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল। মা জাগ্রত। এলাকার বাসিন্দারা কোনও কাজ করার আগে মায়ের মন্দিরে প্রণাম করে যান। ১৫দিন ধরে মায়ের বিশেষ পুজো হয়। পুজো শুরুর আগে আটটি কলসের জলে মাকে স্নান করানো হয়। তখন পুরো গ্রামের বাসিন্দারা ভিড় করেন।
স্থানীয়রা বলেন, পুজোর দিনগুলিতে থিম আর আলোর রোশনাই দেখতে অনেকেই বর্ধমানে ভিড় করেন। কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে মায়ের মন্দিরে একবারের জন্য হলেও যান না, এমন বাসিন্দা কম রয়েছে। 
সারা বছরই মন্দিরে ভক্তদের সমাগম লেগেই থাকে। কিন্তু পুজোর সময় এলাকার বাইরে থেকেও অনেকেই এখানে আসেন। বহু বছর আগে গ্রামের এক ব্যক্তি স্বপ্নাদেশে মায়ের দেখা পান। তিনি মাকে এনে গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকেই মায়ের নানা মাহাত্ম্যর কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামে মন্দির তৈরি হয়। মায়ের নিত্যপুজো হয়।
গ্রামে এখন পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর কয়েকটা দিন বাকি রয়েছে। তারপরই শুরু হয়ে যাবে শঙ্করী মায়ের বিশেষ পুজো। সন্ধিপুজোর গুরুত্ব গ্রামবাসীদের কাছে অন্যরকম। সেই সময় মায়ের কাছে অনেকেই প্রার্থনা করেন। মা মনোস্কামনা পূরণ করেন বলেই অনেকের বিশ্বাস।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ