Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুনর্বিন্যাসের পর হাওড়ার ৬০ আসনে পুরভোট নভেম্বরে, সঙ্গে কলকাতাও?

পুনর্বিন্যাসের পর হাওড়ার ৬০ আসনে পুরভোট নভেম্বরে, সঙ্গে কলকাতাও?
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষবার হাওড়া পুরসভার ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে সেই নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সেদিন থেকে হাওড়া পুরসভায় কোনো ওয়ার্ডে কোনো কাউন্সিলার নেই। একপ্রকার ‘অভিভাবকহীন’ হাওড়া! এর মধ্যে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কবে ভোট হবে, কীভাবে ভোট হবে, আগের ওয়ার্ড বিন্যাসই থাকবে, নাকি ফের ডিলিমিটেশন—এসব প্রশ্নের জবাব পায়নি হাওড়াবাসী। পুরভোট অধরাই থেকে গিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর দ্রুত পুরভোট নিয়ে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। অবশেষে এল সুখবর! পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) দ্রুত সম্পূর্ণ করে চলতি বছরের নভেম্বরেই হতে চলেছে বহুকাঙ্খিত পুরভোট। সরকারের আরও সিদ্ধান্ত, পুনর্বিন্যাসের পর হাওড়া পুরসভায় থাকবে মোট ৬০টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ এই সংখ্যক আসনেই হবে পুরভোট। 

Advertisement

মঙ্গলবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই বলেন, ‘তৃণমূল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে হাওড়া পুরসভাকে ৬৬টি ওয়ার্ডে ভাগ করেছিল, যা কোনোদিন মান্যতা পায়নি। জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন হাওড়া পুরসভাকে ৬০টি ওয়ার্ডে ভাগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উন্নত পুর পরিষেবা নিশ্চিত করতে কতগুলি ওয়ার্ড প্রয়োজন, সমীক্ষার ভিত্তিতেই তা ঠিক করা হয়েছে। নভেম্বরে নির্বাচন হবে, এটা নিশ্চিত।’ সেই সঙ্গে কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে হাওড়ার সঙ্গেই বা তার কয়েকদিনের মধ্যে কলকাতায়ও পুরভোট হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, রাজ্যে পালাবদলের পর ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন পুরবোর্ড ভেঙে যায়। তারপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরসভায় এসে নিজেই জানিয়েছিলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতায় পুরভোট হয়ে যাবে। 
হাওড়ায় ঠিক কোন জটিলতার কারণে এত বছর পুরভোট আটকে ছিল? জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডকে হাওড়া পুরসভার মিশিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে হয় ৬৬। ২০২১ সালে ফের হাওড়া থেকে বালি পুরসভাকে আলাদা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। তখন হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৬ থেকে কমে ফের ৫০ হয়ে যায়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে নিয়ম মেনে বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনে রাজ্য সরকার। তবে রাজ্যের বারংবার আবেদন সত্ত্বেও সেই বিল চার বছর ফেলে রাখে রাজভবন। তখন একপ্রকার বাধ্য হয়ে হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ৬৬টি ওয়ার্ড তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। সেই কাজও শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস পুরানো বিলটিতে সই করে দেওয়ায়। কারণ, সেই সংশোধনী অনুযায়ী হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা হওয়ার কথা ৫০। আর তা করতে গেলে পুনরায় ডিলিমিটেশন ও রিজার্ভেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ার্ড সংখ্যা ফের ৫০-এ নামিয়ে আনতে হবে। এই জটিলতা কাটাতে চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় নতুন করে ‘হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পাস করায় পূর্বতন সরকার। সেই বিলে এখনও রাজ্যেপালের সই হয়নি। এই অবস্থায় ফের সীমানা পুনবির্ন্যাস করিয়ে নির্বাচনের পথে হাঁটতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন’ অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসের এই কাজ করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ