নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ ১২ বছর পর কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থার (ইপিএফও) সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেতনসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের পরেই এবার কর্মচারী রাজ্য বিমার (ইএসআই) ক্ষেত্রেও বেতনসীমা বৃদ্ধির দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে ইএসআইয়ের সুবিধা পেতে বেতনসীমা ২১ হাজার টাকা, যা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত। শ্রমিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং ন্যূনতম মজুরিবৃদ্ধির নিরিখে এই সীমা অবাস্তব হয়ে পড়েছে। ইপিএফওর শেষবার সীমা বৃদ্ধি হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ঠিক একইভাবে ইএসআইয়ের সীমাও শেষবার বাড়ানো হয়েছিল ২০১৭ সালে, ১৫ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকা করা হয়েছিল তখন। কিন্তু তারপর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে অনেক ক্ষেত্রেই ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি হয়ে গিয়েছে। ফলে বহু শ্রমিক সামান্য বেতন বৃদ্ধির কারণে ইএসআইয়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটেই অন্যান্য সংগঠনের পাপাশি বিজেপি ঘনিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘও (বিএমএস) দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ইপিএফওর সীমা ৩০ হাজার টাকা এবং ইএসআইয়ের সীমা ২১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজার টাকা করা হোক। সংগঠনের কর্তাদের বক্তব্য, একজন শ্রমিক ২১ হাজার টাকা বেতনে ইএসআইয়ের সুবিধা পান, কিন্তু বেতন বেড়ে ২২ হাজার হলেই তিনি সেই সুবিধা হারান! অথচ তাঁর আর্থিক অবস্থার কোনো বড়ো পরিবর্তন হয় না। চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচের বাজারে এটি শ্রমিকদের প্রতি অবিচার। এই দাবিতে বিএমএস গত ৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধরনা কর্মসূচি পালন করে এবং ১৭ আগস্ট যন্তরমন্তরে বড়ো বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। শুধু বিএমএসই নয়, কর্ণাটকের মতো রাজ্য সরকারও কেন্দ্রকে চিঠি লিখে ইএসআইয়ের সীমা ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে, কারণ সেখানে ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু শ্রমিক ইএসআইয়ের আওতা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
শ্রমমন্ত্রক সূত্রে খবর, ইপিএফওর সীমা বৃদ্ধির পর এবার ইএসআইয়ের প্রস্তাবও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শ্রমমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সংগঠনগুলিকে আশ্বস্ত করেছেন। ইএসআইয়ের কেন্দ্রীয় বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য শিওপ্রসাদ তেওয়ারি বলেন, পর্ষদের এই সংক্রান্ত সাবকমিটিতে দু’বার আলোচনা হয়েছিল এটা নিয়ে। আমাদের দাবি ছিল, শেষবার যখন ওই সীমা বাড়ানো হয়, তারপর মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে অনেকটাই। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ইএসআই সংক্রান্ত বেতন সীমা বাড়ানো উচিত। পিএফে তা হওয়ায়, আমাদের আশা সরকার এবার এই দিকটিও ভেবে দেখবে।