নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে বেসামাল অবস্থায় ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দাকে মারধর করার অভিযোগ উঠল। অভিযুক্ত কাউন্সিলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। মহিলা কাউন্সিলারের সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই অস্বস্তি বাড়িয়েছে জোড়াফুল শিবিরে। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান। ঘটনা রবিবার রাতে গণেশ পুজোর প্রতিমা বিসর্জনের পর। ওই রাতেই ঘটনাস্থলে হাজির হন মেয়র গৌতম দেব। কাউন্সিলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শিলিগুড়ি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শ্রাবণী দত্ত। তিনি মিডডে মিল বিভাগের মেয়র পারিষদও। ওই রাতে প্রতিমা বিসর্জন সেরে এসে ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা খাওয়াদাওয়া করার জন্য পড়ার একটি দোকানে যান। অভিযোগ, সেই সময়ই কাউন্সিলার এবং তাঁর মেয়ে তাঁদেরকে হুমকি দেন ও শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন। বিসর্জনে পুরসভার গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগকারীদের মধ্যে তমাল ধর বলেন, আমাকে বেসামাল অবস্থায় কাউন্সিলার মারধর করেছেন। এলাকার মহিলাদেরও মেরেছেন কাউন্সিলার ও তাঁর মেয়ে। আমরা সমস্ত বিষয় ফোনে মেয়র গৌতম দেবকে জানাই। রাতেই উনি আসেন। তাঁকেও বিস্তারিত সবটা জানিয়েছি।
যদিও হুমকি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন কাউন্সিলার শ্রাবণী দত্ত। তিনি সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তাঁর দাবি, অনেক রাত পর্যন্ত এলাকায় মদ্যপান চলছিল। তিনি এর প্রতিবাদ করেছিলেন। সেইসময় তাঁর মেয়ের উপরে হামলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বেসামাল অবস্থায় মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্সিলারের জবাব, আমি বিসর্জনে গিয়েছিলাম। রাস্তায় কিছুটা নাচানাচি করেছিলাম। এরজেরে কিছুটা বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সেজন্য আমায় বেসামাল লাগছিল। আমি কোনও মদ্যপান করিনি। বরঞ্চ মদপানের প্রতিবাদ করেছিলাম। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে, কাউন্সিলারের এমন আচরণ নিয়ে ঘাসফুল শিবিরেও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকী খোদ মেয়র গৌতম দেব বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ করবেন বলে জানিয়েছেন। মেয়র বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করব। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। শ্রাবণী দত্তের আরও দাবি, তাঁকে কালিমালিপ্ত করতেই বিজেপি এমন চক্রান্ত করতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
কাউন্সিলারের দাবিকে অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সহ সভাপতি রাজু সাহা বলেন, কাউন্সিলারের কীর্তির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতেই এটা স্পষ্ট যে ঘটনায় আমাদের দলের কোনও হাত নেই। পুরোটাই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
শহরের রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আশ্রমপাড়ায় গণেশ পুজো নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী রয়েছে। ঘটনার রাতে ওই এলাকাতে দু’টি পুজোরই বিসর্জন ছিল। পুজো নিয়েও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একটি পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান শ্রাবণী। ঘটনার মুহূর্তে শ্রাবণী দত্ত (লাল পোশাকে)।