নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাঁচবছর বাদে এমএলএ লেখা গাড়িতে সিপিএমের কোনো বিধায়ক ঢুকলেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পার্টি অফিসে। রাজ্য দপ্তরে তাঁকে দেখেই বুকে টেনে নেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বুধবার বিধানসভায় গিয়ে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন সিপিএমের ডোমকল কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)। ২১ মে ডোমকলে বিজয় সমাবেশে যাওয়ার জন্য বিমানবাবুকে এদিন আমন্ত্রণ জানিয়ে যান তিনি।
গত পাঁচবছরে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে একাধিকবার এমএলএ লেখা গাড়ি ঢুকেছে। সে গাড়ি ছিল আইএসএফের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির। তিনি আসন সমঝোতা করতে বৈঠকে যোগ দিতে আসতেন আলিমুদ্দিনে। এবার পাঁচবছর বাদে গাড়ি ঢুকল সিপিএমের বিধায়ককে নিয়ে। বিধানসভা থেকে আলিমুদ্দিনের পথে রওনা হওয়ার খবর পৌঁছনোর পর দলের কর্মীরা মোস্তাফিজুরের পথ চেয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বিধায়ক সপরিবারে গিয়েছিলেন শপথ অনুষ্ঠানে। তারপর দীর্ঘক্ষণ বিমানবাবুর সঙ্গে আলোচনা করেন ডোমকলের বিধায়ক। পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে মোস্তাফিজুর কীভাবে দাঁড়িয়েছিলেন সেকথা জানতে চান বিমানবাবু। মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপচারিতার পর বিধায়ক বলেন, ‘বিমানদা আমাদের বটগাছ। পথিক হিসাবে যতদূরই যাই না কেন, শেষে এসে বটগাছের ছায়া দরকার। পরামর্শ দিলেন, ইতিহাস বললেন। তাছাড়া উনি নিজে বহু খবর রাখেন। আমাদের ডোমকলের প্রাক্তন বিধায়ক আনিসুর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন। আমাদের ওখানে ২১ তারিখ বিজয় সমাবেশ। সেখানে যেতে আমন্ত্রণ জানালাম।’ ডোমকলের বিধায়কের সঙ্গে আলিমুদ্দিনে দেখা করেন পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির বৈঠকে বহরমপুরে গিয়েছেন। শুক্রবারও বিধানসভায় আসতে হবে বলে জানান মোস্তাফিজুর। শূন্য দশা কাটিয়ে ডোমকলের বিধায়ককে নিয়ে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে সিপিএম। বিধানসভায় শপথগ্রহণের আগে মোস্তাফিজুর বলেন, ‘মানুষ শূন্য থেকে ১ করেছে। মানুষই ১ থেকে ১০০ করবে। ২০০ করবে।’ বিধায়ক পদে শপথ নেওয়ার পর রাজ্য দপ্তরে ঢুকছেন মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)।