নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ডেঙ্গুর পর এবার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া। মুর্শিদাবাদ জেলায় জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৮০০ জন। লাগাতার কয়েক দিনের বৃষ্টির জেরে জল জমছে সর্বত্র। ড্রেন থেকে শুরু করে আবর্জনা স্তূপ, খানাখন্দ থেকে শুরু করে নিচু জমি সব জলমগ্ন। বাড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তাঘাট এবং উঠোনও জলে ভাসছে। এরপরেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। এই জমা জলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মশা জন্মাচ্ছে। জেলার সর্বত্র লাগামছাড়া মশার উপদ্রব। যেখানে সেখানে ময়লা ও আবর্জনার স্তূপ গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ভয় ধরাচ্ছে। আগামী এক মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্তাদের।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এখনও পর্যন্ত ৭৮০ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে। গত বছরেও একই সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যালেরিয়ার প্রভাব সব থেকে বেশি নবগ্রাম, সামশেরগঞ্জ, রানিনগর-১ ও ভগবানগোলা-২ ব্লকে। এই চারটি ব্লকেই ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা পৌনে তিনশো। নবগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একশো। সামশেরগঞ্জে ৬২ জন, ভগবানগোলা-২ ব্লকে প্রায় ৬০ জন এবং রানিনগর-১ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু। মুর্শিদাবাদ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও ৭৭২ ছাড়িয়েছে।
যেভাবে প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে তাতে আগামীতে মশার উপদ্রব আরও বাড়বে। দুর্গাপুজো পর্যন্ত ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গুর উভয়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। তবে যে সমস্ত ব্লকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক, সেসব ব্লকে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যাও বেশি। মনে করা হচ্ছে, ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে তাঁরা জেলায় ফিরছেন। সে কারণে মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার রমরমা এতটা বেশি বলে দাবি স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা বলেন, ম্যালেরিয়ার সঠিক সময়ে চিহ্নিত করা ও তার উপযুক্ত চিকিৎসা খুব জরুরি। ম্যালেরিয়া রোগের আলাদা কোনও লক্ষণ নেই। এই রোগের প্রথম উপসর্গ হল জ্বর। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। কখনও জ্বর কমে যাবে, কখনও আবার তা তীব্র ভাবে আসবে। সেই রকম হলে সন্দেহ করা হয়, আক্রান্তের ম্যালেরিয়া হয়েছে। জ্বর হলে কোনও প্রাথমিক প্রতিষেধকের উপরে ভরসা না রেখে, আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। রক্ত পরীক্ষা করালেই ধরা পড়বে ম্যালেরিয়া হয়েছে কি না, তারপর উপযুক্ত চিকিৎসা হবে।
এই বর্ষার সময়ে সিজিনাল ফ্লু এবং ভাইরাল ফিভারের প্রাদুর্ভাবও দেখা যাচ্ছে। অনেকে তাতেও আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।