


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দিনভর জল্পনা জিইয়ে রেখে অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় পদত্যাগ করলেন পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায়। তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান বারাকপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ বারিকের দপ্তরে। সেটি মহকুমা শাসক পাঠিয়ে দিয়েছেন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে। এরপর পুর আইন মোতাবেক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ বোর্ড অফ কাউন্সিলারের কাছে পেশ হয়ে গৃহীত হবে। এরপর হবে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়া। জানা গিয়েছে, নতুন চেয়ারম্য্যান হওয়ার দৌড়ে এখনও পর্যন্ত এগিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ(পূর্ত) সোমনাথ দে।
মলয়বাবুর পদত্যাগের খবরে স্বস্তিতে তৃণমূল। দলনেত্রীর নির্দেশের পরও টালবাহানা করছিলেন মলয়বাবু। বিতর্ক ক্রমশ দানা বাঁধছিল। তৈরি হচ্ছিল অস্বস্তি। অবশেষে তার অবসান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পানিহাটি। এ শহরের ফুসফুস অমরাবতী মাঠ বিক্রির গুঞ্জন ঘিরে সমস্যা জটিল আকার নিয়েছিল। ওই বিশাল জমিতে বহুতল গড়ার গুঞ্জনে শহরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তার উপর যন্ত্র দিয়ে মাঠের জলাভূমি শুকনোর কাজ শুরু হতেই ক্ষোভ চরমে ওঠে। বিরোধিতা শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ও মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মাঠ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর গোচরেও আসে। এমনিতেই পানিহাটিতে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে নাগরিকদের ক্ষোভের শেষ নেই। জঞ্জাল, জল, রাস্তা, আলো, নিকাশির বেহাল দশা বলে সমস্যা চরমে। তার উপর অমরাবতীর খবর আগুনে ঘি দেয়। মুখ্যমন্ত্রী অমরাবতী মাঠ অধিগ্রহণের নির্দেশের পাশাপাশি চেয়ারম্যান মলয় রায়কে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। শনিবার রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মলয়বাবুকে ফোন করে পদত্যাগ করতে বলেন। কিন্তু সোমবার ‘কি অপরাধ করেছেন’ তা দলকে খোলসা করতে বলেন মলয়বাবু। তারপর রাতে কলকাতায় যান ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে আলোচনার পর জটিলতা কাটে। ফিরহাদ বলেন, ‘উনি ভালো মানুষ। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।’ পাশাপাশি মলয়ও দলের নির্দেশ শিরোধার্য বলে পদত্যাগ করবেন বলে জানান।
কিন্তু বুধবার সকালে আচমকা গলার স্বর বদলে যায় মলয়ের। বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত অনেক বড় সিদ্ধান্ত। আমাকে আরও আলোচনা করতে হবে। আমি প্রশাসনিক মহলে আলোচনা করি। তারপর ভেবে দেখব।’ পুরসভা সূত্রে খবর, এই সময় বহু ফাইলে তিনি তারিখ ছাড়াই সই করেন। অনেকে জানিয়েছেন, এদিন তাঁকে মৌমাছির মতো ঘিরে ছিলেন শহরের বহু প্রোমোটার ও ঠিকাদার। তাঁরা শেষবেলায় কাজ হাসিলের উদ্দেশে এসেছিলেন চেয়ারম্যানের কাছে। তবে সন্ধ্যার পর চিত্রনাট্যে বদল আসে। মলয় পুরসভায় বসে পদত্যাগপত্র টাইপ করান। তারপর চিঠিটি মহকুমা শাসকের অফিসে পাঠান। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি মলয় রায়, পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমি ১২ মার্চ বিকেলে পদত্যাগ করলাম।’ তারপর তিনি বলেন, ‘দলনেত্রীর নির্দেশ শিরোধার্য। আমি দলের সৈনিক। আমি শুধু নিজের অপরাধটুকু জানতে কিছুটা সময় নিয়েছিলাম। মানুষও জানেন কোনও অনৈতিক কাজ আমি করিনি। আমি চক্রান্তের শিকার। আমার সম্পর্কে দলের সর্বোচ্চস্তরে ভুলবার্তা পাঠানো হয়েছিল।’