নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকৃতই এক বৃত্ত পূরণ হল। সৌজন্যে প্রাপ্তির ২২শে। ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টালিগঞ্জ থেকে গড়িয়া বাজার পর্যন্ত মেট্রোর সম্প্রসারিত রুটের উদ্বোধন করেছিলেন। স্বপ্নের বুনন শুরু সেদিন থেকেই। ১৬ বছর পর সেই ২২ আগস্টেই আরও তিনটি মেট্রো প্রকল্প প্রাপ্তি মহানগরবাসীর। যার মধ্যে অন্যতম ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সম্পূর্ণ রুটে শুক্রবার থেকেই যাত্রী পরিষেবা চালু হয়ে গেল। একই দিনে কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা এবং নোয়াপাড়া থেকে বিমান বন্দর (জয় হিন্দ) রুটের উদ্বোধনও হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন যশোর রোড মেট্রো স্টেশন থেকে স্কুল পড়ুয়াদের সঙ্গে খোশ গল্পে মেতে জয় হিন্দ স্টেশন পর্যন্ত সফর করেন। একইভাবে ফিরে আসেন যশোর রোডে। সেখানে দলীয় একটি সভাতেও অংশ নেন। সন্ধ্যায় দমদম বিমান বন্দর থেকে উড়ে যান দিল্লি।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের মেট্রো পরিবহণে বৈপ্লবিক বদল আসতে চলেছে। হাওড়া, শিয়ালদহ ও বিমান বন্দর মেট্রো পথে জুড়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এতদিন শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন সংযুক্ত না হওয়ায়, গোটা রুটের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন ইস্ট-ওয়েস্টের যাত্রীরা। এদিন দীর্ঘ সেই বঞ্চনার অবসান হল। সন্ধ্যা থেকেই হাওড়া ময়দান-সল্টলেক সেক্টর ফাইভ রুটে মেট্রো চলাচল শুরু হয়ে যাওয়ার খুশি আম-জনতা।
২০১৯ সালে বউবাজার বিপর্যয়ের পর গোটা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছিল। তবে একদল বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারদের নিরলস প্রচেষ্টায় টানেলের এই বিপদ কাটিয়ে মাটির তলা দিয়ে গঙ্গা পেরিয়ে হাওড়া পৌঁছে গিয়েছে মেট্রো। অন্যদিকে, আগামী সোমবার থেকে চালু হয়ে যাবে বিমান বন্দর ও বেলেঘাটা মেট্রো রুট। দু’টি রুট মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে মেট্রো পথে জুড়ে দেবে। স্বভাবতই শহরের যানজট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশাবাদী রেল কর্তারা। ফাইল চিত্র