নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ছাত্রীকে মোবাইলে মেসেজ করে প্রেম নিবেদন করছেন শিক্ষক। সেটা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। লজ্জায় মুখ ঢাকছে শিক্ষিত সমাজ। শুধু এখানেই থেমে থাকা নয়, স্কুলের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রেমে ডুব দিচ্ছেন। চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন হয়ে গেলেও তাঁদের হুঁশ ফিরছে না। কোনও কোনও শিক্ষক আবার স্কুলের মধ্যে সহকর্মীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে যাচ্ছেন। সেই বিষয় থানা পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় সম্প্রতি এমনই বেশকিছু ঘটনা সামনে এসেছে। শিক্ষকরা এমন কাজে জড়িয়ে গেলে তাঁরা কী শিক্ষা দেবেন? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এইসমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনাগুলি এড়াতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘সহজ পাঠ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। কিছুদিনের মধ্যে তাঁদের নিয়ে কর্মশালা করা হবে। শিক্ষার আঙিনায় অপ্রীতিকর কিছু হলে সেটা পুরো সমাজে প্রভাব পড়ে। সেটাই তাঁদের বুঝিয়ে বলা হবে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনোই কলুষিত হওয়া উচিত নয়। সমাজের প্রতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, শিক্ষক- শিক্ষিকাদের পাঠ দেওয়ার কিছু নেই। বেশিরভাগ শিক্ষক বা শিক্ষিকা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ড্রপআউট বন্ধ করতে তাঁরা পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। কিন্তু অল্প কয়েকজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার জন্য বদনাম হচ্ছে। তাঁদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়েই কর্মশালা করা হবে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে কর্মশালা করা হবে। ক্লাস চলাকালীন মোবাইল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বহু স্কুলে পড়ুয়ারা মোবাইল হাতে স্কুলে যেতে পারে না। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসরুমে মোবাইল হাতে ঢোকেন বলে অভিযোগ। তাতে অনেক সময় পড়াশোনা ব্যাহত হয়। সেকারণে ক্লাসে মোবাইল নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এক শিক্ষক বলেন, যাঁরা অনিয়ম করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিক। কিন্তু সবাইকে দোষী করা ঠিক হবে না। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা আন্তরিকভাবে পাঠ দেন। কিছুজন নিয়ম মানতে রাজি নন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ জমা হয়েছে। ওই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ডেকে শুনানি করা হয়েছে। তাঁদের কাউকে কাউকে শোকজ করা হয়েছে। স্কুলের মধ্যে কেউ রিলস বা ভিডিও বানালে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করলে সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।