Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাগ্নের সঙ্গে মামির পরকীয়ায় অশান্তি, বজবজে জোড়া আত্মহত্যা

ভাগ্নের সঙ্গে মামির পরকীয়ায় অশান্তি, বজবজে জোড়া আত্মহত্যা
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: মামির সঙ্গে ভাগ্নের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তা নিয়ে বিস্তর কানাকানি শুরু হয়েছিল পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যেও। দু’জনের বাড়িতেও এনিয়ে অশান্তি শুরু হয়েছিল। তার পরিণতিতে ঘটল জোড়া আত্মহত্যা! নিজেদের বাড়িতে প্রায় একই সময়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন মামি ও ভাগ্নে। পুলিস প্রাথমিকভাবে মনে করছে, গলায় দড়ি দেওয়ার সময় বা তার সামান্য আগে তাঁরা দু’জন ভিডিও কলে কথা বলেছেন। তারপরই আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দু’জনে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম অনন্যা সর্দার (২৩) এবং রাকেশ বাগ ওরফে রকি (২০)। সোমবার রাতে বজবজ থানার উত্তর রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাইকপাড়ায় এবং পাশের গ্রামে দু’টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এনিয়ে শোরগোল পড়ে যায় গোটা এলাকায়।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বজবজ থানার নন্দনপুরের অনন্যার সঙ্গে আশা গাজিতলার পাইকপাড়ার বাসিন্দা রঞ্জিত সর্দারের বিয়ে হয়েছিল। রঞ্জিতের একটি গ্যারাজ রয়েছে। দম্পতির এক পুত্রসন্তানও আছে। গত কয়েক মাস ধরে রঞ্জিতের বাড়িতে তাঁর পিসতুতো দিদির ছেলে রকির যাতায়াত বেড়ে গিয়েছিল। সেখানে এসে মামির সঙ্গেই দীর্ঘক্ষণ কাটাতেন রকি।  সম্পর্কে ভাগ্নে হওয়ায় প্রথমের দিকে এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি। কিন্ত দিনের পর দিন এই ঘটনা রকির মা ও পরিজনরা মেনে নিতে পারেননি। পড়শিরাও এনিয়ে নানা মুখরোচক কথা ছড়াতে শুরু করে। একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে রকি যা মাইনে পেতেন, তার অধিকাংশই নাকি মামির জন্য খরচ করে দিতেন! এসব কারণে দ্রুত অশান্তি বাড়তে থাকে দুই পরিবারে। দু’মাস আগে রকি আচমকাই চাকরি ছেড়ে দেন। তারপর মামির কাছে যাওয়া এবং সময় কাটানো আরও বেড়ে যায়। এসব নিয়ে অনন্যার বাড়িতেও অশান্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। পুলিস জেনেছে, সোমবার রাতে রকির মা ছেলেকে এনিয়ে বকাঝকা করেন। মা-ছেলের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। তারপরই রকি এবং অনন্যা ফোনে কথা 
বলেন। এরপর অনেক রাতে যুবক ঘরে গলায় দড়ি দেন। পুলিস জানিয়েছে, দু’জনে প্রায় একই সময়ে  আত্মঘাতী হয়েছেন। সম্ভবত মৃত্যুর আগে দু’জনে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিস। অনন্যার শাশুড়ি দীপ্তি সর্দার বলেন, ‘রাতে নাতিকে নিয়ে বউমার ঘরে গিয়ে দেখি, ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছে আর কান্নাকাটি করছে। জিজ্ঞেস করায় বলল, মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। আমি নাতিকে নিয়েই বেরিয়ে আসি। আরও রাতে বউমাকে ডাকতে গিয়ে দেখি, সিলিং থেকে ঝুলছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ