পুরাণ-দর্শনের ভাবনায় নান্দনিকতা চুঁচুড়া ও শ্রীরামপুরের পুজো মণ্ডপে
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চূড়ান্ত বাস্তব থেকে সীমাহীন কল্পনা। সনাতনী দার্শনিক ভাবনা থেকে আধুনিক সনাতনী। ঐতিহ্যের অনুসরণ থেকে পুরানো ভাবনার নয়া দিশা। শ্রীরামপুর থেকে চুঁচুড়া, থিমের আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ সবই এনে দিচ্ছে হাতের মুঠোয়। ফুটে উঠছে নানা বর্ণময় বিন্যাস। যার পরতে পরতে চমকের হাতছানি।

Advertisement

কখনও শিল্পীর বিশ্বাস বা কখনও সময়ের দাবিতে ‘সময়’ই হয়ে ওঠে থিম। এমনই এক থিম এবার দেখা যাবে হুগলির চুঁচুড়ার পেয়ারাবাগান উদয় সংঘে। উদ্যোক্তাদের থিম, সত্যের আদি সনাতনী। মূলত, তিনটি শব্দকে তিনটি পৃথক ব্যাঞ্জনায় থিমের অবয়বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সত্য অর্থে সত্যযুগ, আদি অর্থে শিব, আর সনাতনী অর্থে সাবেক ঐতিহ্যমণ্ডিত সময়। ত্রিভাব সমন্বিত এই থিমের মণ্ডপসজ্জা তাই অনেকটা অভিনব। প্রাচীন সময়ের দেবীভাবনা মূলত পাহাড়ের গায়ে পাথর কুঁদে বা গুহামন্দিরের আদলে প্রকাশিত হয়েছিল। সেকারণেই একটি পর্বতমালা, গুহামন্দিরের কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। একাধিক গুহা বা মণ্ডপ থাকবে মূল মণ্ডপে। দেবী দুর্গা প্রস্তর মূর্তির আদলে মণ্ডপে থাকবেন। সঙ্গে সত্যযুগের প্রতিনিধিত্ব করতে রামচন্দ্র, হনুমান যেমন থাকছেন, তেমনই রয়েছেন আদিদেবতা ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। থাকবেন প্রথম পূজ্য গণেশও। ফাইবার, ফোম, প্লাস্টার অব প্যারিসের বিচিত্র মণ্ডপসজ্জা দেখতে ইতিমধ্যেই স্থানীয়রা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। পুজোর উদ্যোক্তা সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, থিমের সঙ্গে মানানসই আলোকসজ্জা থাকবে। মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমা ও আলো মিলিয়ে রীতিমতো নান্দনিক আয়োজন করা হয়েছে। 
ভারতীয় দর্শনের অন্যতম মূল আশ্রয় পঞ্চতত্ত্ব বা পঞ্চভূত। ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোম, এই নিয়েই আমাদের সৃষ্টি। সমগ্র সৃষ্টিকেই সেই ধারণা থেকে ব্যাখ্যা করা হয়। সেটিকেই আধার করে এক ভিন্ন ধরনের থিম নিয়ে হাজির হয়েছে শ্রীরামপুরের চাতরার দত্তপাড়া সর্বজনীন। তাদের থিমের নাম, পঞ্চতত্ত্ব। দার্শনিক থিমকে বাস্তবের মাটিতে নামানো হয়েছে এক ভিন্ন আঙ্গিকে। মণ্ডপসজ্জার ভাবটিই ওই পঞ্চতত্ত্ব। যেখানে বাতাস পেরিয়ে আগুন সামলে জল ছুঁয়ে ভূমিতে দাঁড়িয়ে তাকাতে হবে মহাকাশ বা মহাশূণ্যের দিকে। সেখানেই আর্বিভূতা হবেন উমা। দেবী এখানে সপরিবারে হাজির থাকবেন বরদাভঙ্গিমায়। অর্থাৎ, মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ পরবর্তী যে অভয়ারূপ দেবীর, তাকেই তুলে ধরা হচ্ছে। জটিল মণ্ডপসজ্জায় নানা উপকরণ ও যান্ত্রিক কলাকৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তা সৌম্যদীপ ঘোষ বলেন, ৩৩ কোটি দেবতার যে ভাবনা হিন্দুধর্মে প্রচলিত আছে, সেসবও তুলে ধরা হবে। সঙ্গে থাকবে থিমের অনুযায়ী বিশেষ আলো।
সমসাময়িক আর পৌরাণিকের ধারাকথনে সময়ের এক মনোহরণ কোলাজ হয়ে উঠছে পুজোমণ্ডপ। অলৌকিক তার সজ্জা, মোহনীয় তার সাজ। বদলে যাচ্ছে দুই প্রাচীন শহরের মানচিত্র। হিমশৈলের মতো মাথা তুলছে নানা শিল্পীত সৌধ। আলোকের বিপুল প্রবাহে ভেসে মায়ানগরী হয়ে উঠছে পুজো মরশুমের হুগলি।