Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাগরমেলায় আকাশপথে নজর, ৪টি হিলিয়াম বেলুনেই ক্যামেরা

গঙ্গাসাগর মেলায় নজরদারির জন্য নয়া উদ্যোগ নিচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। এবার থেকে ২৪ ঘণ্টাই নজরদারির জন্য আকাশে থাকবে চারটি অত্যাধুনিক ক্যামেরা।

সাগরমেলায় আকাশপথে নজর, ৪টি হিলিয়াম বেলুনেই ক্যামেরা
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গঙ্গাসাগর মেলায় নজরদারির জন্য নয়া উদ্যোগ নিচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। এবার থেকে ২৪ ঘণ্টাই নজরদারির জন্য আকাশে থাকবে চারটি অত্যাধুনিক ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলি থাকবে হিলিয়াম বেলুনের মধ্যে। কচুবেড়িয়া, লট ৮ ও মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে সেগুলি। এর ফলে নদীতে ভেসেল পারাপার, কোথায় কেমন ভিড় হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিনিয়ত নজরদারি করতে পারবে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, এই ক্যামেরা সরবরাহের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে। এতদিন প্রশাসনের তরফে নজরদারির জন্য ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হলেও তা দিনের সব সময় ওড়ানো হতো না। ফলে কন্ট্রোল রুম থেকে সারাক্ষণ আকাশপথে নজরদারি চালানো যেত না। এবার সেই সমস্যা পাকাপাকিভাবে দূর হবে। 

Advertisement

গঙ্গাসাগর মেলার বাকি আড়াই মাস। ফলে এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে রেখেই হিলিয়াম বেলুনে ক্যামেরা লাগিয়ে তা ওড়ানোর পরিকল্পনা করেছে জেলা প্রশাসন। যেহেতু ২০২৬ সালে মহাকুম্ভ নেই, তাই গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা যে বাড়বে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তাই ঠিকমতো ভেসেল চলাচল থেকে শুরু করে ভিড় সামলানো— প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নজরদারি ক্যামেরার ধরন বদলানো হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, এই ক্যামেরাগুলি সারাক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার উপর নজর রাখবে। লট ৮ বা কচুবেড়িয়ায় যদি দেখা যায় অতিরিক্ত তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুম থেকে তা নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাছাড়া কোন জেটিতে কত ভেসেল রয়েছে কিংবা কেউ দূরে দাঁড়িয়ে আছেন কি না, তাও ক্যামেরার মাধ্যমে লক্ষ্য রাখা যাবে। একইভাবে সমুদ্র সৈকতের ভিড়ের দিকেও নজরদারি চালানো যাবে। এর পাশাপাশি পুলিশ কর্মীদের বডি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়েও আলাপ আলোচনা চলছে।
প্রতি বছরই সাগরে ভেসেলের অবস্থান জানতে ইঞ্জিন বা চালকের ঘরে লাগানো হয় জিপিএস। জেলা পরিবহণ বিভাগের পর্যবেক্ষণ, তাতে সব সময় সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। যেহেতু জিপিএস এক জায়গায় স্থির অবস্থায় থাকে, তাই ভেসেল ঠিক কোথায় রয়েছে, সব সময় তা বোঝা যায় না। তাই এবার ভেসেলের ছাদে একটি স্প্রিংয়ের উপর জিপিএস লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে সেটি সারাক্ষণ নড়ে। এর ফলে জলযানের সঠিক অবস্থান বোঝা যাবে বলে দাবি করেছে প্রশাসন। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি ভেসেলে এভাবে স্প্রিংয়ের উপর জিপিএস লাগানো হয়েছে। তাতে ভালো ফল মিলেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ