


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: থানায় বসানো সিসি ক্যামেরা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ও নাইট ভিশন না-থাকায় বহু মামলাতেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে রাজ্য পুলিসকে। সংখ্যায় কম হওয়ায় পুরো থানা কভারেজে থাকছে না। এরই মোকাবিলা করতে কমিশনারেটগুলিতে নতুন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য পুলিস। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি কমিশনারেটের ৫০টি থানায় ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাতে নাইট ভিশনের সঙ্গে বাড়তি স্টোরেজ ক্যাপাসিটিও থাকছে। এজন্য খরচ ধরা হয়েছে সাত কোটি টাকা।
থানায় বসানো ক্যামেরার স্টোরেজ ক্যাপাসিটি কম হওয়ায় সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ থাকছে না। এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালতে ছবি জমা দিতে গিয়ে রাজ্য পুলিসের কালঘাম ছুটছে। এমনকী, অভিযোগকারী অনেক সময়ই অভিযোগ আনেন যে থানায় কর্তব্যরত পুলিস কর্মীরা দুর্বব্যবহার করেছেন। ক্যামেরার মান খারাপ হওয়ায় পুরো ছবি ও অডিয়ো ধরা পড়ছে না। তাই অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিসকে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে তদন্তকারী অফিসারদের রুম, চাইল্ড কর্নার এবং জিজ্ঞাসাবাদের কক্ষ পুরোটাই ক্যামেরায় মুড়ে ফেলতে হবে। অভিযুক্তকে জেরার সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কি না তা যাতে ধরা পড়ে, জানা যাবে। ওইসঙ্গে নাইট ভিশন আবশ্যিক করা হয়েছে।
কিন্তু রাজ্য পুলিসের থানায় বসানো ক্যামেরাগুলির এই গুণগত মান নেই। প্রতিটি থানায় ছয়টি করে ক্যামেরা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী কুড়িটি ক্যামেরা লাগাতে হবে প্রতিটি পুলিস স্টেশনে। রাজ্যের সমস্ত থানায় ক্যামেরা বসাতে খরচ পড়বে একশো কোটির উপর। প্রাথমিক পর্যায়ে কমিশনারেটগুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ কলকাতা সংলগ্ন এই কমিশনারেটগুলিতে মামলার চাপ যথেষ্ট বেশি। সে-কথা মাথায় রেখেই ছ’টি কমিশনারেটকে বাছা হয়েছে।
রাজ্য পুলিস সূত্রের খবর, এজন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। রাজ্যের শেয়ার এর সঙ্গে যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে সাত কোটি টাকা খরচ পড়বে। প্রতিটি থানায় কুড়িটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি থাকছে ক্যামেরাগুলিতে। এই কারণে ভিডিয়োর সঙ্গে স্পষ্ট অডিয়ো মিলবে। একইসঙ্গে ৩৬৫ দিন স্টোরেজ ক্যাপাসিটি থাকছে। এই কারণে আদালতে গিয়ে পুলিসকে সমস্যায় পড়তে হবে না। সূত্রের খবর, আগামী মাসেই এই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। ৫০টি থানার কাজ শেষ হলে কমিশনারেটগুলির বাকি থানায় এই কাজ শুরু হবে। তারপর বিভিন্ন জেলায় এই কাজে হাত দেবেন আধিকারিকরা।