Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাইরে থেকে তালাবন্ধ ঘরে উদ্ধার প্রৌঢ়ের ঝুলন্ত দেহ

বাইরে থেকে বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে এক প্রৌঢ়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল পানিহাটিতে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম প্রণব মজুমদার (৫৩)।

বাইরে থেকে তালাবন্ধ ঘরে উদ্ধার প্রৌঢ়ের ঝুলন্ত দেহ
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বাইরে থেকে বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে এক প্রৌঢ়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল পানিহাটিতে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম প্রণব মজুমদার (৫৩)। তাঁর বাড়ি পানিহাটি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুখচর পঞ্চাননতলা এলাকায়। পরিবারের দাবি, টাকার জন্য কেউ তাঁর ঘরে লুটপাট চালিয়ে খুন করতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের দেহে বড় কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু দরজার বাইরে কারা তালা লাগাল, সেটাই বড় ধাঁধা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, তা স্পষ্ট হবে। কেউ খুন করে ঘরের বাইরে থেকে চাবি লাগিয়ে পালিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

পঞ্চাননতলার নিজের বাড়িতে একাই থাকতেন প্রণববাবু। তিনি অবিবাহিত, কোনও কাজও করতেন না। তাঁর আরও এক বোনও অবিবাহিত। ওই বোন সিঁথি থানা এলাকায় মামার বাড়িতে থাকেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রণববাবু মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। শনিবার রাতে স্থানীয়রা তাঁর ঘর থেকে খুব জোরে টিভি চলার আওয়াজ পান। এরপর দেখা যায়, তাঁর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো। ঘরের মধ্যে আবার আলো জ্বলছে। সন্দেহবশত প্রতিবেশীরা তাঁর নাম ধরে ডাকাডাকি করেন। কোনও সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। তাতে দরজা কিছুটা ফাঁক হয়। তখন দেখা যায় ঘরের মধ্যে প্রণববাবুর দেহ ঝুলছে। গলায় গামছার ফাঁস। দ্রুত এলাকাবাসীরা খড়দহ থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে তালা ভেঙে প্রণববাবুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জেনেছে, প্রণববাবুর বাবা-মা বছর পাঁচেক আগে মারা যান। তার আগেই তাঁরা তাঁদের জমানো যাবতীয় সম্পত্তি ও অর্থের দায়িত্ব মামী দীপালি গুপ্তের হাতে দিয়ে যান। দীপালিদেবী ভাগ্নিকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে রাখেন। প্রণববাবু নিজের বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন। তাই প্রতি মাসে সংসার খরচের জন্য মামী তাঁকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে পাঠাতেন। মাঝেমধ্যে প্রণববাবুর কাছে দীপালিদেবীর বোনের ছেলে এসে থাকতেন। প্রণববাবু পাড়ার লোকেদের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। বেশিরভাগ সময় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। কীভাবে প্রণববাবু মারা গেলেন, তাঁকে খুন করা হয়েছে কি না, কে বা কারা তাঁর ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা বন্ধ করল, ঘর থেকে কিছু চুরি গিয়েছে কি না, পুলিশ এসব খতিয়ে দেখছে। 
মৃতের মামী দীপালি গুপ্ত বলেন, ভাগ্নের কোনও শত্রু ছিল বলে জানি না। আমি ওকে টাকা পাঠাতম। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার ধারণা ঘর থেকে টাকা পয়সা লুট করে ওকে খুন করা হয়েছে। এরপর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ