নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ জেলার ডিএম ও এসপির অফিসের জন্য এডিএমের নেতৃত্বে জমি চিহ্নিতকরণ শুরু করল হুগলি জেলা প্রশাসন। সোমবার হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) দিলীপ মিশ্র, আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার সহ ভূমি দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা পরিদর্শন করেন। পরে আরামবাগ মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মহকুমার ভূমি দপ্তরের অফিসারদের নিয়ে একটি বৈঠকও করেছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, আরামবাগ পুরসভা ও ব্লক মিলিয়ে পাঁচটি স্পট ঘুরে দেখেছেন অফিসাররা। কিন্তু ডিএম ও এসপির অফিসের জায়গা এখনও নিশ্চিত হয়নি। ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে, আরামবাগ জেলার সীমানা কেমন হবে তার প্রস্তাবিত মানচিত্রের খসড়া এদিন রাজ্যের কাছে জমা দিয়েছেন পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ। তিনি বলেন, রবিবার বিকেলে তারকেশ্বরে জেলাশাসকের সঙ্গে আরামবাগ জেলা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। জেলা গঠনের কাজ শুরু করছে প্রশাসন। তারজন্যই এদিন প্রশাসনের আধিকারিকরা জমি দেখেছেন। পাশাপাশি নতুন আরামবাগ জেলার সীমানা কেমন হবে তা নিয়ে একাধিক প্রস্তাব রাজ্যের কাছে পাঠিয়েছি। তাতে পার্শ্ববর্তী জেলার সীমানা ব্লকগুলিকে রাখা হয়েছে। কোনো মানচিত্রে আবার সেগুলি বাদও দেওয়া হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য নেবে।
মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিন আরামবাগের গড়বাড়ি, জয়রামপুর, চাঁদুর হাউসিং, কালীপুরে রেল ব্রিজ সংলগ্ন অংশের জমি দেখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলির কোথায় ডিএম, এসপি অফিস হবে তা নির্ধারিত হবে। তবে আরও জায়গা দেখা হতে পারে। জেলা প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বিজেপি সরকার আরামবাগকে জেলা ঘোষণা করায় খুশি বাসিন্দারা। হুগলি জেলা সদর চুঁচুড়ায় গিয়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম করতে দিন কাবার হয়ে যায় আরামবাগ মহকুমার প্রান্তিক এলাকার মানুষজনের। তাই পৃথক জেলার দাবিতে আন্দোলনও হয়েছে। জেলা গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে নজর রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন জেলার সীমানা কী হবে তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তারসঙ্গে কোথায় জেলা আদালত ও অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তর হবে, সেগুলি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। যদিও সেসব নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিধায়ক বলছেন, বছর খানেকের মধ্যে পৃথক আরামবাগ জেলা গঠিত হয়ে যাবে। তারজন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরকদমে করতে বলা হয়েছে। সরকারি খাস জায়গায় বিভিন্ন ভবন গড়ার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জমি কিনতে হতেও পারে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।