রাজু চক্রবর্তী কলকাতা
রাজু চক্রবর্তী কলকাতা
ভোটের আগে বাংলায় এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে। এবার ভোটার তালিকায় এই বিশেষ সংশোধনের কাজে যুক্ত অফিসারদের বদলি ঘিরে চূড়ান্ত অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করছে প্রশাসনিক স্তরে। এমনকি নির্বাচন পর্বে এই বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা ব্যুমেরাং হতে পারে বলে আশঙ্কা ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ, রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে এসআইআর করার মূল দায়িত্বে রয়েছে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও (এইআরও)। মূলত ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (ডব্লুবিসিএস) ক্যাডারের অফিসাররাই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৬২টিতে ডব্লুবিসিএস-রাই ইআরও কিংবা সহকারী ইআরও-র ভূমিকায় থাকবেন। সোমবার নবান্ন সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের প্রায় শ-পাঁচেক অফিসারের বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আর তা ঘিরেই বড়ো অংশের ইআরও-এইআরও-দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেড়শোজনের বেশি অফিসার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীন কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের সচিবকে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ, ২০২১ সালের ভোটে ও গণনায় ডব্লুবিসিএস-দের একটা অংশ অবৈধভাবে শাসক দলকে সাহায্য করেছিলেন। বিতর্কিত এই বদলির সিদ্ধান্ত ঘিরে এবার উলটো অশনিসংকেত দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সূত্রের দাবি, তড়িঘড়ি বদলির অর্ডার বের করতে গিয়ে একাধিক ভুল করেছে রাজ্য। সিনিয়র-জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে পদমর্যাদার ফারাক এই অর্ডারে মানা হয়নি। রীতি অনুযায়ী ডব্লুবিসিএস স্বামী-স্ত্রীকে পাশাপাশি ব্লক, মহকুমা কিংবা জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়ে থাকে। এবার সেই রীতি মানা হয়নি বলে অভিযোগ। আংশিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মহিলা অফিসারকে দার্জিলিংয়ে বদলি করা হয়েছে। আর তাঁর স্বামী পোস্টিং পেয়েছেন বাঁকুড়ায়। নিজের কিংবা পরিবারের কোনও সদস্যের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতায় বহু অফিসার হোম ডিস্ট্রিক্টে পোস্টিং পেয়ে থাকেন। এই ধরনের বহু ডব্লুবিসিএস অফিসারকে দূরবর্তী জেলায় পাঠানো হয়েছে। অবসরের দোড়গোড়ায় থাকা আমলাদের মূলত বাড়ির কাছাকাছি জেলায় রাখা হয়। এই অর্ডারে তাঁদের দূরে পাঠানো হয়েছে। নেপালি অফিসারদের পাহাড়ি এলাকা থেকে তুলে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের রোষের মুখে ডব্লুবিসিএস সংগঠনের নেতারা। অন্যদিকে, সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের তিনটি জেলাশাসক পদে ছিলেন ডব্লুবিসিএস অফিসার। বদলির অর্ডারে ২২টি জেলাই আইএএস-দের জিম্মায় চলে যাওয়ায় তুমুল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ডব্লুবিসিএস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আসরফ আলি বলেন, এই ধরনের বড়ো অর্ডারে কিছু অফিসারের আপত্তি থাকতেই পারে। আমরা সংগঠনগতভাবে তাঁদের বক্তব্য সরকারের কাছে তুলে ধরব। আশা করব, সুযোগ পেলে বদলির সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হবে।