নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দুর্গম এলাকায় বাঁধের হাল কেমন জানতে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। এমনটাই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব দুর্গম এলাকায় পৌঁছনো কঠিন, সেই এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করা হবে। নজরদারিতে যদি দেখা যায় কোনো বাঁধের হাল খারাপ, তাহলে সেচদপ্তরকে খবর দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেবে প্রশাসন। বর্ষার আগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাঁধের কী পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এলে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সেসব নিয়ে সোমবার বৈঠক হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সদর কার্যালয়ে। সেখানেই এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও কোথায় কত কাঁচা বাড়ি আছে, সেসব চিহ্নিত করা থেকে আগাম জরুরি সামগ্রী মজুত সহ একাধিক বিষয় নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে।
বর্ষাকালে উপকূল সহ পুর এলাকায় জল জমা যেমন একটা বড়ো ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়, তেমনই নদী বাঁধ ভাঙন নিয়েও প্রচুর অভিযোগ আসে। কোন কোন গ্রাম, পুরসভায় বাঁধ ভাঙনের প্রভাব বেশি পড়ে, সেগুলি চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৩১০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ১০৭টি সংবেদনশীল হিসাবে ধরা হয়েছে। কারণ এসব জায়গায় নদী বাঁধ উপচে জল ঢোকা থেকে শুরু করে প্লাবন, ক্ষয়ক্ষতি প্রভৃতি হয় বেশি। তাই এদের উপর বাড়তি নজর থাকবে প্রশাসনের। এর মধ্যে একটা বড়ো অংশ সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকা। বৈঠকে সেচদপ্তর বেশ কিছু দুর্বল নদী বাঁধের কথা উল্লেখ করেছে। যেমন গোসাবা, নামখানা, সাগর প্রভৃতি ব্লকে কিছু কিছু অংশে এরকম বেহাল বাঁধ রয়েছে। বর্ষার আগে যাতে সেইসব মেরামত করার কাজ শেষ করা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০টির বেশি বেহাল স্লুইস গেট সারাই করা হয়েছে বলে দপ্তর জানিয়েছে।
জানা গিয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠিন, সেরকম দ্বীপাঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্যোগের পূর্বাভাসের পরপরই যাতে সেসব জায়গায় জরুরি ওষুধ, শুকনো খাবার সহ অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায়, তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বৈঠকে। বর্তমানে জেলার কাছে ৮৫ হাজারের মতো ত্রিপল এবং ৬০ হাজারের কাছাকাছি ডিএম কিট মজুত রয়েছে বলে খবর। মাটির বাড়ি চিহ্নিত করার সময় যদি দেখা যায় কোনো এমন বাড়ির হাল খুবই খারাপ, তাহলে সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।