নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বাস ধর্মঘটের জেরে এবার অটো, টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় নামল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার পরিবহণ দপ্তর ও পুলিস যৌথভাবে অভিযানে নামে। এদিন আরামবাগের আরটিও দেবাশিস সরকার ও ট্রাফিক পুলিসের তরফে অভিযান চালানো হয়। আধিকারিকরা যানগুলির নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে আশার আলো দেখছে বাস মালিক সংগঠন। আজ, শুক্রবার পরিবহণ দপ্তর অটো ও টোটো সংগঠনের নেতাদের বৈঠকে ডেকেছে।
এই ব্যাপারে আরামবাগের এআরটিও বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশমতো আমরা রাস্তায় অটো ও টোটো চলাচলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। অনেক ই-রিকশর নথি নেই। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তারা যাতে না যাত্রী তোলে সে ব্যাপারেও বলা হয়েছে। এমনকী, বাসরুটে টোটো ও অটো যাত্রী না তোলে তাও বলা হয়েছে।
আরামবাগের বাস ও মিনিবাস অপারেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা মধুমিতা ভট্টাচার্য বলেন, যাত্রী না পেয়ে বাসগুলি আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। প্রশাসন অবৈধ অটো ও টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করলে আমার এর সুফল পাব।
আরামবাগ শহর আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, রাজ্য সড়কের উপর যাতে অটো ও টোটো না চলে তা নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন। আমরা সংগঠনের তরফেও চালক ভাইদের তা বোঝানোর চেষ্টা করছি। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাস, অটো ও টোটো স্বাভাবিক ছন্দে চলে তার চেষ্টা করা হবে। কারও যাতে রুটি রুজিতে টান না পড়ে প্রশাসন তা দেখবে।
পরিবহন দপ্তরের দাবি, বুধবার আরামবাগের মায়াপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেই সময়রাজ্য সড়কে অটো, টোটো ও ট্রেকার চলাচল করেনি। এদিন আরামবাগ শহরেও নেতাজি স্কয়ার এলাকায় অভিযানের পরও ওই যানগুলির চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে বলে দাবি। অটো ও টোটোগুলিকে শাখা রাস্তায় চলাচল করার জন্য বলেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার হুগলি জেলার পাশাপাশি আরামবাগ মহকুমাতেও বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মালিক সংগঠন। অবৈধ অটো, টোটো, ম্যাজিক ও ট্রেকার চলাচলে নিয়ন্ত্রণের দাবিতে মালিক সংগঠন ধর্মঘট করে। ওইদিন ধর্মঘটে শামিল হয় এক্সপ্রেস বাস মালিক সংগঠনও। অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস বন্ধের ঘোষণা করায় সোমবারই জেলা প্রশাসন তাতে হস্তক্ষেপ করে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায় মহকুমাজুড়ে।