প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ভারী বৃষ্টি এবং ঝড়ের দাপটে লন্ডভন্ড কলকাতা সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। রাজ্যের অন্যান্য অংশেও চলছে ঝড়বৃষ্টির দাপট। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণের প্রায় ১০ লক্ষ ত্রিপল নিয়ে ধন্দে পড়েছে প্রশাসন! কারণ, রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ‘বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ড’-এর লোগো ব্যবহারে ইতি টেনেছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। কিন্তু এই ১০ লক্ষ ত্রিপলে রয়েছে বিশ্ববাংলার ‘ব’ দেওয়া লোগো। চুরি ঠেকাতে ত্রাণের সরকারি ত্রিপলে এই লোগো ছাপা চালু হয় বছর আড়াই আগে। এখনও বিতরণ না হওয়া প্রায় ১০ লক্ষ ‘ব’ লোগো দেওয়া ত্রিপল পড়ে রয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের গোডাউনগুলিতে। সেগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে? আদৌ কি সেগুলি বিতরণ করা হবে? নাকি অন্য কোনো পদক্ষেপ? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আপাতত প্রশাসনের শীর্ষ মহলের নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
গত সরকারের আমলে রাজ্যের লোগো হিসাবেই ব্যবহার করা হতো এই ‘ব’-কে। লোগোর উপরে ছোটো করে থাকত অশোক স্তম্ভের ছবি। সমস্ত সরকারি নথি ও চিঠিতে সেই লোগো ব্যবহৃত হত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটার প্যাডেও ছিল একই লোগো। তাই চুরি ঠেকাতে সেই লোগো ত্রাণের ত্রিপলেও ব্যবহার করা শুরু হয়। ত্রিপলের উপর এক-একটি লোগোর আয়তন এতটাই বড়ো যে এখন সেগুলি মুছে ফেলা কার্যত অসম্ভব। বর্তমান সরকার ‘ব’ লোগো সরিয়ে সরকারি সমস্ত কাজকর্মের জন্য শুধুমাত্র অশোক স্তম্ভের ছবিতেই ফিরে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে নতুন দরপত্র ডেকে ত্রিপল কেনার কাজ শুরু হলে তবেই ওই লোগো সরিয়ে শুধুমাত্র অশোক স্তম্ভের ছবি দেওয়া ত্রিপল মিলবে। কিছু দিনের মধ্যেই রাজ্যে বর্ষা নেমে যাবে। ফলে হাতে সময় একেবারে নেই বললেই চলে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের করের টাকায় কেনা লক্ষ লক্ষ ত্রিপল শুধুমাত্র পূর্বতন সরকারের লোগো থাকার জন্য বাদ দেওয়ার পথে বর্তমান সরকার হাঁটবে না বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কিন্তু যতক্ষণ না চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে প্রশাসনের অন্দরেই। নিয়ম অনুযায়ী, আগে থেকেই জেলায় জেলায় যথেষ্ট পরিমাণে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে রাখা হয়, যাতে দুর্যোগের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসন ত্রাণকার্যে নামতে পারে। তাছাড়া, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী জেলায় পাঠানো হয়। এবারও আগেভাগেই ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ত্রিপলও।