নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নব নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে প্রথম রিভিউ বৈঠক হল আসানসোলের জেলাশাসক কার্যালয়ে। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর এবং নারী, শিশু সুরক্ষা ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠকে জেলার কোন এলাকায় কী বৃহৎ সরকারি প্রকল্প চলছে তা তুলে ধরা হয়। ১০০ দিনের প্রকল্প থেকে সবুজসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। যদিও এদিনের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় পানীয় জলের সংকট মেটানো নিয়ে। বিজেপি বিধায়করা যেমন নিজের এলাকার জল সংকট মেটাতে জোর দিয়েছেন তেমনই প্রশাসনিক ভাবেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
রাজ্যে পালাবদলের পর পশ্চিম বর্ধমান জেলার উন্নয়ন নিয়ে শনিবারই প্রথম বৈঠক হয়। ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য বহু ক্ষেত্রেই সামাজিক ও সরকারি প্রকল্পগুলির কাজের মূল্যায়ন হয়নি। সেই লক্ষ্যে জেলাশাসক পোন্নমবলম এস অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, আসানসোল ও দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার সহ জেলা প্রশাসনের সব শীর্ষ কর্তাদের বৈঠকে ডাকেন। পাশাপাশি ডাকা হয়েছিল জেলার নতুন বিধায়কদেরও। জেলার সরকারি কাজের পরিসংখ্যান পুস্তিকা সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার আগে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সহ বিধায়কদের গোলাপের বুকে দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিধায়করা নিজের, নিজের এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে চর্চা করেন। পাশাপাশি এদিন শিল্পাঞ্চলের দূষণ নিয়ে সরব হন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠক শেষে জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, পানীয় জলের সংকট মেটানো নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা বলেন, ডবল ইঞ্জির সরকার এসেছে রাজ্যে। এদিনের বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক। জেলার মানুষ দেখবেন প্রকৃত উন্নয়ন কাকে বলে। পানীয় জলের সংকট মেটানোর নানা পরিকল্পনা হচ্ছে।
এদিন কিন্তু বেশ কিছু বেনিয়ম নিয়েও সরব হন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের দাবি, জেলায় যত জলাভূমি ভরাট করে নির্মাণ হয়েছে তা প্রশাসনকে খুঁজে বের করতে হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসককে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। এছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেগুলি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জল সংকট মেটাতে আমরা অজয় ও দামোদরে পৃথক পৃথক রিজার্ভারের কথা জানিয়েছি। প্রয়োজনে আমাদের বিধায়ক তহবিলের সব টাকা দিয়েও আমরা তা করতে চাই। পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, পাণ্ডবেশ্বরের একটি জলপ্রকল্পের আরজি জানিয়েছি। এছাড়া পঞ্চপাণ্ডব মন্দিরকে হেরিটেজ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছি। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, দুর্গাপুর পুরসভা ও এডিডিএতে কোনো প্রশাসক নেই। দু’টি সংস্থার কাজ যাতে ভালভাবে হয় সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
রানিগঞ্জের পদ্ম বিধায়ক পার্থ ঘোষ বলেন, কার সুবিধার জন্য অণ্ডালে এনএইচ ফ্লাইওভারের নকশা বদল হয়েছে, তার তদন্ত করতে বলেছি। বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় বলেন, জুবলি থেকে রুনাকুড়া রাস্তাচার লেনের প্রস্তাব দিয়েছি।