বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: হাতে একমাসও সময় নেই। বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার জন্য পূর্ণোদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করে দিল প্রশাসন। আগামী ৩ জুলাই থেকে হিমালয়ের কোলে এই তীর্থক্ষেত্রের উদ্দেশে রওনা হবেন পুণ্যার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রার জন্য রেজিস্ট্রশনেই সারা দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এবার অমরনাথ যাত্রার জন্য বিপুল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘জিরো ক্যাজুয়ালটি’ নীতি নিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ধারের পরিকাঠামোকে নতুন করে সাজানো হয়েছে।
অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মাউন্টেন রেসকিউ টিমের (এমআরটি) ইনচার্জ রাম সিং সালাথিয়া বলেন, ২০০ জন কর্মীকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ১৮টি দলে ভাগ করে দু’টি যাত্রাপথে মোতায়েন করা হবে। পহেলগাঁও রুটে থাকবে ১৪টি দল। বাকি চারটি দল থাকবে বালতল রুটে। অমরনাথ যাত্রা চলাকালীন যাতে প্রাকৃতিক দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই বন্দোবস্ত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৮৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত অমরনাথ তীর্থক্ষেত্র। হিমালয়ের ধসপ্রবণ এলাকার মধ্যেই পড়ে গোটা যাত্রাপথ। তাছাড়া হড়পা বান এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই তীর্থ দর্শন সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। গত বছর অমরনাথ যাত্রা চলাকালীন ভূমিধসে একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন তিনজন। তাই এবার অতিরিক্ত সতর্ক প্রশাসন। দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সালাথিয়া বলেন, অ্যাভালাঞ্চ ভিকটিম ডিটেকটর (এভিডি) দেওয়া হচ্ছে এমআরটিকে। এর সাহায্যে কোথাও কোনো তীর্থযাত্রী আটকে পড়লে তাঁর প্রকৃত অবস্থান জানা যাবে। উদ্ধারের কাজও সহজ হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামও মজুত করা হচ্ছে। উচ্চতার কারণে অনেকেই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগেন। এবার ৪০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।