সংবাদদাতা, রামপুরহাট: যানজট মুক্ত করতে রামপুরহাট শহর লাগোয়া জাতীয় সড়কের দুধারে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। বৃহস্পতিবার রামপুরহাট মহকুমাশাসকের অফিসে সমস্ত বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক শেষে বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জাতীয় সড়কের দু’ধার ফাঁকা করা হবে। সেই সঙ্গে রামপুরহাট মেডিকেল থেকে স্টেশন আসার সংকীর্ণ রাস্তাটি ৩০ ফুটের করা হবে। সেক্ষেত্রে ক্যানেল পাড়ের সরকারি জায়গা দখল করে যেসমস্ত নির্মাণ হয়েছে সেগুলি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হবে। এই রাস্তার সঙ্গে স্টেশন লাগোয়া মিলিটারি রোড যুক্ত করার জন্য আরওবি নির্মাণ নিয়েও বৈঠকে রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান বিধায়ক। রামপুরহাট শহরের যানজট সমস্যা দূর করতে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং জরুরি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন নাগরিকরা। রামপুরহাটের মতো একটি ব্যস্ত ও জনবহুল শহরের জন্য যানজট নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। এর আগে বেশ কয়েকবার যানজট নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার প্রশাসনিক বৈঠক হলেও ফলপ্রসু হয়নি। রাজ্যে পালাবদল ও বিজেপির ঘোষিত সংকল্প যানজট মুক্ত রামপুরহাট শহর করতে উদ্যোগী হলেন বিধায়ক। জাতীয় সড়কের ধার এবং শহরের সংকীর্ণ রাস্তাগুলো দখলমুক্ত না করলে যে যানজট চিরতরে দূর করা সম্ভব নয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত মতো প্রশাসন এবার সরাসরি সেই জায়গাতেই হাত দিচ্ছে। বিধায়ক বলেন, জাতীয় সড়কের দুধার দখল হয়ে গিয়েছে। এর আগের সরকার ফুটপাত উচ্ছেদ করলেও আবার ব্যবসায়ীরা বসে পড়েছেন। তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য এদিন আলোচনা ও জায়গা ম্যাপিং হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে জাতীয় সড়কের দু’ধার সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের ভিতরের রাস্তার চাপ কমাতে রামপুরহাট মেডিকেলে থেকে স্টেশন যাওয়া আসার ক্যানেল পাড়ের রাস্তাটি ৩০ ফুটের করা হবে। সেই রাস্তার সঙ্গে মিলিটারি রোড যুক্ত করতে আরওবির ব্যবস্থা করার জন্য রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্যানেল পাড় দখল করে বহু বাড়ি, গ্যারেজ ও দোকান গড়ে উঠছে। বিধায়ক স্পষ্ট জানান, সেসবই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, শহরের ভিতরের রাস্তার দুধার আগের সরকারের সময়ই দখলমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু অনেকে জোর করে দোকান বানিয়ে বসে গিয়েছে। তাঁদের কাছে আবার নোটিস যাবে। তবে তাঁদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা হবে। যানজট মুক্তির পাশাপাশি রামপুরহাট শহরের সামগ্রিক ভোলবদল করতে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকরণ, সব এলাকায় যাতে সঠিক মাত্রায় পানীয় জল পৌঁছায় তার ব্যবস্থা করা, শহরের সর্বত্র পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করে নিরাপত্তা ও দৃশ্যমানতা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।



