বারোয়ারিগুলির কাছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান প্রশাসনের, এবার এক অ্যাপেই কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী পুজোর সব তথ্য, সমন্বয় সভায় ঘোষণা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল প্রশাসন। পুজোর তালিকা, মণ্ডপের ম্যাপ থেকে শুরু করে পুজোর ইতিহাস—সমস্ত তথ্য এবার এক অ্যাপেই জানতে পারবেন দর্শনার্থীরা। আসন্ন কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, বিসর্জন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকালে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে প্রশাসন ও ক্লাব-বারোয়ারির প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই প্রশাসনের তরফে ‘স্মার্ট পুজো গাইড’ অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন পুজোর তালিকা,  ম্যাপ এবং পুজোর ইতিহাস জানতে পারবে সাধারণ মানুষ। পুজো পরিক্রমার পরিকল্পনা করতে এই অ্যাপ দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে সাহায্য করবে বলে মনে করছে প্রশাসন। 

Advertisement

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অতুল ভি, প্রশাসনের অধিকারিক সহ বিধায়করা। সভা থেকে আসন্ন কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ক্লাব ও বারোয়ারির প্রতিনিধিদের একাধিক বার্তা দেওয়া হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিসর্জনের সময়সূচি মেনে চলা এবং সামগ্রিকভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুজো ও বিসর্জন যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর কালীপুজোর বিসর্জনে ৪৬টি সাং অংশগ্রহণ করবে। লরিতে করে বিসর্জন শুরু হবে বিকাল ৫টা থেকে। কাঁধে করে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হবে রাত ৮টা থেকে। নির্দিষ্ট সময় মেনে এবং সুষ্ঠুভাবে বিসর্জন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজোর ঘট বিসর্জন সকাল ১০টা থেকে শুরু করা হবে বলে সভায় জানানো হয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, আমাদের মাত্র এক সপ্তাহ হাতে সময় আছে। এর মধ্যে আমাদের পরিদর্শন করতে হবে। বারোয়ারিগুলির এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্ট ভালো করে দেখতে হবে। বড়ো বারোয়ারিগুলির ক্ষেত্রে দু’টো বাহির পথ রাখলে ভাল হয়। আলোর ব্যবস্থা ভাল থাকতে হবে। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় মতো বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে।
কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়  বলেন, আমাদের সকলকে দেখতে হবে বিসর্জনকে কেন্দ্র করে অশান্তি যাতে না হয়। যারা পুজোর সঙ্গে যুক্ত  থাকে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। কয়েকজন নিজেদের রাগ মেটাতে ঝামেলা করে। সেগুলির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনো বারোয়ারি অশান্তি করলে প্রশাসন এবার কড়া ব্যবস্থা নেবে। তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে। সময় অনুযায়ী সকলকে বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে।
কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক সাধন ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আপনারা পুজো করে আসছেন, কী করলে ভাল হবে, কী করলে খারাপ হবে আপনারা জানেন। খারাপ জিনিসগুলি বদল করতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে। সময় অনুযায়ী প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে। এবার পুজোয় ভিড় অনেক বাড়বে। তাই আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে।  নিজস্ব চিত্র