নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় রেল নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার এলে সিউড়ি-প্রান্তিক এবং সিউড়ি থেকে রাজনগর হয়ে ঝাড়খণ্ডের নলা পর্যন্ত জোড়া রেলপথ বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন। সেইসময় তৃণমূল কটাক্ষ করে বলেছিল, এসবই নিছক ভোটের গিমিক, কাজের কাজ কিছুই হবে না। কিন্তু বিরোধীদের সেই কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়ে জোড়া রেলপ্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এবার আরও একধাপ এগোল রেল।
বুধবার পূর্বরেলের সদর দপ্তরে জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডের সঙ্গে সিউড়ি-নলা এবং সিউড়ি-প্রান্তিক নতুন রেল পরিষেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি ও ভূমি সংস্কার) শুভম আগরওয়াল। বৈঠক শেষে বিধায়ক জগন্নাথ বলেন, প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই জোড়া রেলপথ তৈরির প্রক্রিয়াগত কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট টাইমলাইন ঠিক হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্প দু’টিকে পিএম গতিশক্তি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত এই জোড়া প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে। আগামী দিনে আমাদের সিউড়ি স্টেশন একটি পূর্ণাঙ্গ জংশনে পরিণত হবে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই সমস্ত খুঁটিনাটি সমীক্ষা শেষ করে রেলবোর্ডের কাছে চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা পড়ার কথা।
বীরভূমের একসময়ের ‘রাজধানী’ রাজনগর। অথচ স্বাধীনতার ৭৯বছর পরও রেল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার মানুষ। নির্বাচনের আগেই এই বৈষম্য মেটাতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন জগন্নাথ। তখনই নতুন রেলপথের চূড়ান্ত সমীক্ষার ছাড়পত্র মিলেছিল। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সেই সমীক্ষার রিপোর্ট জমা পড়েছে। প্রস্তাবিত ৭৩কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ বীরভূমের অন্যতম তীর্থস্থান বক্রেশ্বর ধাম এবং ঐতিহাসিক রাজনগরকে যুক্ত করবে। কয়লাখনি অঞ্চলগুলিকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে সুকৌশলে এই রেলপথের আধুনিক নকশা তৈরি করা হয়েছে।
সিউড়ি-প্রান্তিক রেলপথও জেলার মানুষের বহু পুরনো দাবি। ২০০৬ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। পরবর্তীকালে ২০১০সালে কাজের কিছুটা গতি এলেও রহস্যজনক কারণে তা আচমকা থমকে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনে পুরন্দরপুর, সালোন, কসবা, মঙ্গলডিহি এবং অবিনাশপুর, এই নতুন স্টেশনগুলি হওয়ার কথা ছিল। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১০সালের সমীক্ষা অনুযায়ী এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭৫হেক্টর জমি প্রয়োজন ছিল। তৎকালীন সরকারের কাছে জমির বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলেও সেইসময় প্রশাসনের তরফে সদর্থক উত্তর মেলেনি। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরই আটকে থাকা প্রকল্পে নতুন করে গতি এসেছে। প্রকল্পের খরচ কমাতে এবং কম রেল ওভারব্রিজ নির্মাণ করে কীভাবে এই রেলপথ তৈরি করা যায় তারজন্য রেলের তরফে নতুন করে উন্নত প্রযুক্তিতে সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
পূর্ব রেলের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘বৈঠক অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে। বীরভূম জেলা প্রশাসনও আমাদের আগামী দিনে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আর আইনি বাধা থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে।’