সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সামনের বছরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। রামমন্দিরের তহবিল চুরি সহ বিভিন্ন ইস্যুতে যোগী সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। দাম না পাওয়ায় সেখানের আলু চাষিদেরও ক্ষোভ বাড়ছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে চাষিদের পাশে কল্পতরু হয়ে দাঁড়াল যোগী সরকার। সেরাজ্যের আলু চাষিদের কুইন্টাল প্রতি ৯০০ টাকা সহায়ক মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে। হিমঘরে রাখা আলুতেও কুইন্টাল প্রতি ১০০ টাকা ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়েছে। আলু বীজেও ভর্তুকি দেওয়া হবে। কিন্তু, বাংলার চাষিদের নিয়ে হেলদোল নেই এরাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের। হিমঘরে রাখা আলু চাষিদের জলের দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। চাষিরা বলছেন, এরাজ্যেও ভোট থাকলে হয়তো হিমঘরে রাখা আলুর জন্য এখানেও ভর্তুকি ঘোষণা করা হত। সামনে ভোট না থাকায় আলু চাষিরা ক্ষুব্ধ হলেও সরকারের কিছু যায় আসে না।
আলু ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডল বলেন, হিমঘরে রাখা আলুর বন্ড এখন ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ চাষিরা কেজিতে ৩ টাকাও দাম পাচ্ছে না। অথচ আলু হিমঘরে সংরক্ষণ করার সময় ব্যবসায়ী ও চাষিদের খরচ হয়েছিল বস্তা পিছু প্রায় ২৫০ টাকা। এখন বস্তায় ১২৫ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশেও আলুর দাম নেই। তাই ইউপি সরকার চাষিদের জন্য ভর্তুকি ঘোষণা করেছে। হিমঘরে রাখা আলুতে কেজি প্রতি ১টাকা ভর্তুকি দেবে। এছাড়া সহায়ক মূল্যও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এরাজ্যের সরকারও এই সিদ্ধান্ত নিলে চাষিরা উপকৃত হবেন। বাংলাতেও তো এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। তাই চাষিদের স্বার্থে সরকার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করুক।
আলু চাষি টুটুল দাস বলেন, বিজেপি ভোটের আগে চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এখন হিমঘরে রাখা আলুর দাম কমে গেলেও সরকার হস্তক্ষেপ করছে না। চাষিরা আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। ধান চাষের খরচ জোগাড় করতে পারছেন না।
চাষিরা বলছেন, আলু নিয়ে সরকারের নীতি ঠিক করা উচিত। বাংলার অর্থনীতি আলুর উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বহু কৃষক আলু চাষের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া উত্তরবঙ্গেও আলু চাষ হয়। প্রকৃতির উপর আলুর ফলন নির্ভর করে। প্রকৃতি সহায় হলে ফলন ভাল হয়। আবার প্রকৃতি বিমুখ হলে ফলন মার খায়। আলু নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট নীতি থাকলে চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয় না।
ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা বলেন, আমাদের সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে। ধানের সহায়কমূল্য বাড়ানো হয়েছে। আলু চাষিদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। চাষিদের চিন্তার কারণ নেই।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানও অধিকাংশ হিমঘরে বিপুল পরিমাণ আলু রয়েছে। চাহিদা না থাকায় ভিনরাজ্যেও তেমন আলু যাচ্ছে না। বাংলার বাজারেও চাহিদা কম। সরকার এখনই পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে চাষিরা চরম বিপাকে পড়বেন।