Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা পরিষেবা কর বন্ধ দীঘায়, স্বস্তি পর্যটকদের

আজ থেকে দীঘা ও অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে ১০ টাকা পরিষেবা কর প্রত্যাহার। পর্যটকদের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর। বিস্তারিত পড়ুন।

আজ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা পরিষেবা কর বন্ধ দীঘায়, স্বস্তি পর্যটকদের
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: আজ, পয়লা জুলাই বুধবার থেকে দীঘা সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল ভাড়ার সঙ্গে নেওয়া ১০ টাকা পরিষেবা কর বা ‘ট্যুরিস্ট সিভিক অ্যামিনিটিজ চার্জ’ (টিসিএসি) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার (ডিএসডিএ) প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কর প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন। ডিএসডিএ-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, পয়লা জুলাই থেকে টিসিএসি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

Advertisement

ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ১০ টাকা নেওয়ার নিয়মটিকে অত্যন্ত সেকেলে বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই খাত থেকে বছরে সরকারের মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা আদায় হতো। যা পর্যটক সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ হিসাবে অনেক ফাঁকি দেওয়া হতো। দীঘায় বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ বেড়াতে আসেন। আসেন উচ্চবিত্তরাও। এমনিতে তাঁরা হোটেল ভাড়ায় জিএসটি দিয়ে থাকেন। তার উপর এভাবে হাত পেতে ১০ টাকা নেওয়ার কোনো সুস্থ সরকারের কাজ হতে পারে না। তাই আমরা ঠিক করেছি, পয়লা জুলাই থেকে পর্যটকদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে আর কোনো হোটেল-লজ কর নেবে না। উল্লেখ্য, সৈকতশহরে হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষ আগত পর্যটকদের কাছ থেকে ভাড়ার সঙ্গে ১০ টাকা করে টিসিএসি আদায় করত। মূলত পর্যটকরা রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলো প্রভৃতি ব্যবহারের জন্য এই পর্যটন পরিষেবা কর নেওয়া হতো। তারপর তা ডিএসডিএ-র কাছে জমা দেওয়া হতো। এটাই হল নিয়ম। ২০০০ সালের গোড়ায় বাম সরকারের আমলে পর্যটক পরিষেবা কর চালু হয়। প্রথমে তা ৩ টাকা করে থাকলেও পরবর্তীকালে বাড়তে বাড়তে ১০ টাকা হয়। অভিযোগ, পর্যটক পিছু ১০ টাকা করে নেওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষ সেই টাকা বছরের পর বছর ডিএসডিএকে জমা দিত না। হিসাবে কারচুপি করা হতো। যেমন, একদিন একটি হোটেলে ১০ জন পর্যটক এলেন। সেখানে হিসাবে দু’জন দেখানো হতো। সেই টাকাই ডিএসডিএ-র কাছে জমা হতো।  বাকি টাকা হোটেল কর্তৃপক্ষ নিজেদের কাছে রেখে দিত। আবার এক একটি হোটেল-লজের লক্ষ লক্ষ টাকা টিসিএসি বকেয়া থাকত। ডিএসডিএ-র মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। সবটা জানার পর আলোচনা সাপেক্ষে মুখ্যমন্ত্রী এই ১০ টাকা পর্যটন পরিষেবা কর প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেন। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমরা একে স্বাগত জানাচ্ছি। এমনিতেই হোটেল ভাড়ার সঙ্গে জিএসটি দিচ্ছেন পর্যটকরা। তার উপর এই অতিরিক্ত কর নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতাই ছিল না। অযথা নেওয়া হতো। এটা আগেই বন্ধ হওয়া উচিত ছিল।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ