সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর মন্দিরে যাওয়ার বিকল্প রাস্তা তৈরি করার জন্য রবিবার এলাকা পরিদর্শন করলেন সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের প্রধান সচিব ও রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মনীশ জৈন ও মন্ত্রী বেচারাম মান্না। ২০০৬ সালে বাম আমলে এই রাস্তার কথা পরিকল্পিত হয় এবং তৈরির কাজও শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তখন এই রাস্তা তৈরির জন্য বানানো হয়েছিল দুটি সেতু। তারকেশ্বর পুরসভায় ২০১০ সালে ও রাজ্যে ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তন হয়। এরপর এত বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়িত হয়নি তারকেশ্বর মন্দিরে যাওয়ার বিকল্প সেই পথ।
তারকেশ্বর মন্দিরে সারা বছরই পুণ্যার্থীরা আসেন। তবে সমস্যা বেশি হয় শ্রাবণ ও চৈত্র মাসে। এই দুই মাসে ঘন জনবসতিপূর্ণ তারকেশ্বরের স্থানীয় বাসিন্দারা তীর্থযাত্রীদের ভিড়ে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। বাম আমলে তৎকালীন পরিবহণ মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর উদ্যোগে তারকেশ্বর ১২ নম্বর রাস্তার পাশে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ট্রাক পার্কিংয়ের জায়গার অনুমোদন দেওয়া হয়। ট্রাক পার্কিংয়ের রাস্তা ধরেই সরাসরি ১৩ এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে পুণ্যার্থীদের মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অনুমোদন পাওয়ার পরে তৎকালীন পুরপ্রধান আশিস রানা ২০০৬ সালে ১৩ নম্বর এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগের জন্য মোট দুটি সেতুও নির্মাণ করেন। সাময়িক রাস্তা তৈরিতে জমিজট দেখা দিলেও পরবর্তী কালে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছিল। পার্কিংয়ের জন্য জমি দিতে সম্মতিও দিয়েছিলেন ভঞ্জিপুর পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকরা। এরপর ২০১০ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয় পুরসভায়। থেমে যায় এই প্রকল্পের কাজ।
এরপর ১০ আগস্ট ২০১৯ সালে তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান থাকার সময় বেচারাম মান্না বিকল্প ওই রাস্তা পরিদর্শনে এসেছিলেন। রবিবার বিকল্প রাস্তা তৈরির বিষয়ে তারকেশ্বরে আসেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মনীশ জৈন। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না, জেলাশাসক মুক্তা আর্য্য, মহকুমা শাসক বিষ্ণু দাস প্রমুখ। পরিদর্শন শেষে তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেন মনীশ জৈন। নিজস্ব চিত্র